প্রধানমন্ত্রীর সফর: লৌহজংয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৮ মে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন হয়ে উঠেছে লৌহজংবাসীর আলোচনার মূল আলোচ্য বিষয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশীর ভাগ মানুষেরই প্রধান দাবি পদ্মাসেতু নির্মাণ। এ সেতু নির্মিত হলে এলাকার উন্নয়নসহ নদী ভাঙন রোধ হবে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে পদ্মাসেতু তাদের প্রধান দাবি হলেও নদী ভাঙনে বসতবাড়ি হারানো ক্ষতিগ্রস্তরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জায়গা বরাদ্দসহ ব্যক্তি সাহায্য-সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন।


২৮ মে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিদর্শনসহ মাওয়ায় ‘নির্ভীক ও প্রত্যয়’ নামের দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা।

২০০১ সালের ১২ জুলাই মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ এলাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের একযুগ পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও আসছেন।


সর্বশেষ তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় মুন্সীগঞ্জের বালিগাঁও স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এরপর সরকার গঠন করার ৪ বছর পর আগামী ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জে আসছেন।

তার আগমন উপলক্ষে প্রত্যাশা কি জানতে চাইলে লৌহজংয়ের নওপাড়া গ্রামের স্কুটার চালক আব্দুল মালেক বলেন, “মাওয়ায় পদ্মাসেতু নির্মাণ হলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তাই নিজের স্কুটার বিক্রি করে হলেও অর্থ জোগান দিতে রাজি আছি।”

তিনি আরও বলেন, “যখন শুনি পদ্মাসেতু হবে না, তখন মনে কষ্ট হয়।”


বেজগাঁও গ্রামের ওয়েলডিং শ্রমিক আবুল হোসেন মোল্লার দাবি পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হউক। কেননা এ সেতু নির্মিত হলে লাখ লাখ মানুষের উপকার হবে।

লৌহজংয়ের ঘোড়দৌড় গ্রামের মৃত ওমর হালদারের বৃদ্ধ স্ত্রী জাহানারা বেগম পদ্মায় বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেলে ভাড়া বাসায় অভাব অনটনের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে তিনি অনেক খুশি।

১৮ বছর ধরে বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা জাহানারা বেগম আ’লীগের একজন সমর্থক। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে তার এতিম সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য একটু জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার আশা করছেন।

দুঃখ করে জাহানারা বেগম বলেন, “আ’লীগ করলেও চেয়ারম্যান মেম্বারদের কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাদের কাছে অনেক ধর্ণা দিয়েও ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডে কোনোটিই পাননি।”

একই উপজেলার দিঘলী গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধা রূপবানী বেগম বলেন, “২০ বছর আগে পদ্মা নদীতে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার পর থেকে একটি ঝুপড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। ছেলে বদলি কাজ ও আর আমি ভিক্ষা করে যে টাকা আয় করি তা দিয়ে কোনো রকমে বাইচ্চা আছি।”

তিনি মনে কষ্ট নিয়ে বলেন, “নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে আসে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়া আমাগো চাউল ও গমের কোনো কার্ড দেয় নাই। আমি জায়গা সম্পত্তি চাই না, ওষুধ কেনার টাকা নাই, তাই প্রধানমন্ত্রী কাছে ২০ হাজার টাকা চাই।”

বড় নওপাড়া গ্রামের আয়শা বেগমও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। বাংলনিউজকে তিনি বলেন, নির্বাচনে হাসিনা ও এমিলিকে ছাড়া কারো ভোট দেই না। দুইশ’ টাকা ভাড়ায় একটি ছাপড়া ঘরে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য চাই।”

একই গ্রামের কনা মন্ডল শুনেছেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা। তার প্রত্যাশা কি জানতে চাইলে কনা মণ্ডল বলেন, “বড় নওপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পূজা করার জন্য কোনো মন্দির নেই।”

তাদের গ্রামে একটি মন্দির নির্মাণ উদ্যোগ নেওয়া হউক এমনটি আশা করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আনন্দের বন্যা বইছে বলে জানান উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ সিকদার। তিনি বলেন, আ’লীগ সরকারের গত ৪ বছরে মুন্সীগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। চলছে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজও।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী মনে করেন, আ’লীগ সরকারের আমলে মুন্সীগঞ্জের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। পদ্মাসেতু নির্মাণ করার আগেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে মন্ত্রীসহ বর্তমান সরকার।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম