মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতি

মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাগামহীনভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। ফলে এর গ্রাহকরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিগত দিনে দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা চাকরীতে ডিমোশন পেয়ে একই স্টেশনে থাকায় এর দুর্নীতির শাখা প্রশাখা নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্নীতিরদায়ে চাকরি চলে গেলেও কোন শাস্তি কেউ পাচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে এখানে চলছে দুর্নীতির রাম রাজত্ব।

মুন্সীগঞ্জের রামশিংয়ের সাত্তাপাড়ার খান বাড়িতে মিটার পুন: স্থাপনে গ্রাহকের কাছ থেকে লাইনম্যান সৈয়দ আহমদ দেড় হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এই গ্রাহকের নাম্বার হচ্ছে ৮৭৫/২৫০০। বাকি আরো ৫০০ টাকার জন্য গ্রাহককে হয়রানি করছে।


বিক্রমপুর সংবাদে দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংবাদ প্রকাশের পর ইদ্রাকপুর জোনে হিসাব রক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস সুমিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের দায়ে চাকরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু সমিতির যে অর্থ সে আত্মসাত করেছে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাছাড়া এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নেননি। বছরের পর বছর এই বিপুল পরিমাণ টাকা নয় ছয়ের ঘটনা ঘটলেও অডিট কমিটি আসলে কি করেছে। এই বিষয়ে জিএম আজমল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। বিক্রমপুর সংবাদে দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংবাদ প্রকাশের পর এজিএম শওকত আলমকে মুন্সীগঞ্জ থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়।

প্লান্ট হিসাব সহকারী চিত্র বাবু, হিসাব রক্ষক আ:হাই ও এজিএম (অর্থ)কে ডিমোশন দিয়ে মুন্সীগঞ্জে রেখে দেয়া হয়েছে। এর বাইরে তাদের বিরুদ্ধে আর কোন ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নেননি বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডালপালা পরিস্কার করার জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এই কাজেও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। এই কাজ করার জন্য প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক কাগজে কলমে দেখানো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাহির থেকে একজন শ্রমিক নেয়া হয়। আর বাকি সমিতির স্টাফ এই কাজে লাগানো হয়। কিন্তু বিল উত্তোলন করায় হয় ঐ ৫/৭ জনেরই নামে। এই ঘাপলাবাজী এখানে জেকে বসেছে। বিলে সাড়ে তিনশ টাকা করে লেখা হলেও শ্রমিকদের দেয়া হয় তিনশ টাকা করে। এই ঘটনাগুলো ঘটছে মুন্সীগঞ্জ ইদ্রাকপুর জোন ও সিপাহীপাড়া অফিসে। এই বিষয়ে ইদ্রাকপুর জোনের এই কাজে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি আলাউলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি মিথ্যা বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে সিপাহীপাড়ার দায়িত্বে রয়েছেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নবিউল হোসেন। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। পশ্চিম কাজী কসবা এলাকায় জনতা ফিসিং নেটে বিদ্যুৎ সংযোগে ট্রান্সফরমারে ৮ কেবি দেয়া হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্টানটি ২০ কেবি ব্যবহারের কারণে তা বিস্ফোরণ ঘটে। সিপাহীপাড়া বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সেখানে ২৫ কেবি ট্র্যান্সফরমার স্থাপন করেছেন এতে সমিতি কোন টাকা পায়নি।

লৌহজং সাব স্টেশন তৈরী না করেই বিদ্যুতের লাইন টানা হয়। এতে কোটি কোটি টাকার তার চুরি হয়ে যায়। পরে সিপাহীপাড়া সমিতি অফিস থেকে স্টাফ দিয়ে পুনরায় সেই লাইন লাগানো হয়। কিন্তু বাইরের শ্রমিক দিয়ে কাজ দেখিয়ে এ খাতে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ

কটি সূত্র জানিয়েছে এই কাজে ওপেন টেন্ডার করা হলে সমিতি কম টাকায় কাজ করতে পারতো।

এতে সমিতির বিপুল টাকা সাশ্রয় হতো। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা নিজেদের পকেট ভারি করতে কোন টেন্ডারের ফাঁদে পা দেয়নি।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ