বাবা ছেলের এভারেষ্ট জয়ের খবর জানলেও, জানে না মৃত্যুর খবর

sajalfatherমৃত্যুর কাছে হার মানা এভারেষ্ট জয়ী খালেদ হোসেন সজল এর মৃত্যুতে তার নিজ বাড়ী মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসারগাঁওসহ গোটা দেশ শোকে কাতর তখনও ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জানে না বাবা। এলকায় শোকের মাতম চললেও ছেলের এভারেষ্ট জয়ের খবরে চোখের পানি ফেলছে বাবা।

খালেদ হোসেন সজল পঞ্চম বাংলাদেশী হিসাবে এভারেষ্ট জয় করেছেন। সজলের গ্রামের বাড়ীতে আত্বীয়-স্বজনদের সাথে বসবাস করছে বৃদ্ধ পিতা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ। বৃদ্ধ এই লোকটি শুধু জানে তার ছেলে ইতোমধ্যে পৃথিবির সবর্চ্ছো শৃঙ্গ মাউন্ড এভারেষ্ট জয় করেছে। কিন্তু সে জানেনা তার ছেলের সর্বোচ্চ পবর্তশৃঙ্গ জয় করেও মৃত্যুর কাছে পারাজিত হয়েছেন।

বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা দেখে ছেলের বিজয়ে তিনি চোখের পানি ফেলেন। এভারেষ্ট যাবার ঠিক কিছু দিন আগে নিজ গ্রামের বাড়ীতে এসেছিলেন তরুন চলচ্চিত্র নির্মাতা এভারেষ্ট জয়ী সজল।
sajalfather
স্বজনদের বলে গেছেন গ্রাম নিয়ে তার উন্নয়ন মুখো নানা পরিকল্পনার কথা। তাই এলাকাবাসীর দাবী করেছেন, শেষ বারের মতো দেখে এই হাসারগাঁও এর মাটিতেই যেন মুন্সীগঞ্জের কৃতি সন্তান খালেদ হোসেন সজল এর দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার এভারেষ্ট জয় করে নিচে নামার পথে সজলসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই গোটা দেশ শোকে কাতর হয়ে পড়ে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ
============


সজল খালেদের বাবা এখনো ছেলের মৃত্যুর খবর জানেন না

আরিফ হোসেন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নেমে আসার সময় নিহত সজল খালেদের বাবা এখনো তার ছেলের মৃত্যুর খবর জানেন না। সজল খালেদের চাচাতো ভাই জাকির সাকিদার জানান খালেদের বাবা আ: আজিজ অসুস্থ্য। তাই এখনো পর্যন্ত তাকে খালেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।বুধবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়গাও গ্রামে সজল খালেদের বাড়িতে গেলে তার আতœীয়-স্বজনরা জানান, সজল খালেদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করলেও প্রায় এক বছর আগে তার বাবা আ: আজিজ স্থায়ী ভাবে গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সজল খালেদ এভারেস্টে যাওয়ার আগে বাবার দোয়া নিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এছাড়া প্রায়ই সজল খালেদ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। তার ছোট চাচা তোফাজ্জল হোসেন সাকিদার জানান, এভারেস্টে যাওয়ার আগে সজল পা ছুয়ে সালাম করে বলেছিল চাচা দোয়া করবেন আমি যেন এভারেস্ট জয় করে ফিরে আসতে পারি। সে স্মৃতি মনে করে তিনি হু হু করে কেঁদে উঠেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা সজল খাদের বাবার সাথে দেখা করতে চাইলে তোফাজ্জল হোসেন জানান তার ভাই খুবই অসুস্থ্য। এজন্য তাকে সজল খালেদের মৃত্যুর খরব জানানো হয়নি। তাই তিনি সজল খালেদের বাবার সাথে দেখা না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। এসময় তোফাজ্জল হোসেন আরো বলেন, সজল খলেদ ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার মেজু ভাই ফরহাদ হোসেন ১৯৯৩ সালের জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। বার বছর আগে সজলের ভাই ফরহাদ ও আট বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর সজলের বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ পরিচালক আঃ আজিজ মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এর পর থেকে তিনি তার ছোট ছেলে সজলকে চোখের আড়াল হতে দিতে চাইতেন না। এমন সময় সজলের মৃত্যুর খবর তার বাবা আ: আজিজকে কিভাবে দিবেন তা নিয়ে আতœীয়-স্বজনরা চিন্তিত।

==================