সামিটে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন খালেদ, হাঁটতে পারছিলেন না

sajal2দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় এভারেস্ট জয়ে সফল হলেও জীবিত ফিরতে পারলেন না সজল খালেদ। বছর দুয়েক আগেও তিনি চেষ্টা করেছিলেন। সেবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় ফিরে আসেন ক্যাম্প ওয়ান থেকেই। মঙ্গলবার মৃত্যুর খবরে দেশব্যাপী শোক ছড়িয়ে পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীমসহ বিভিন্ন মহল থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

মুসা বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার অঙ্গনের জন্য প্রচণ্ড দু:খজনক ঘটনা এবং অপূরণীয় ক্ষতি।”

পুরো নাম মোহাম্মদ খালেদ হোসেন (সজল খালেদ)। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে মোহাম্মদ হোসেন নাম উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আনুমানিক গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট অভিযানে বের হন খালেদ। তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। ‘কাজলের দিনরাত্রি’ নামের চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এই তরুণ।

নেপালের সাউথ ফেস দিয়ে ২০ মে সকাল আনুমানিক ১০টায় এভারেস্ট জয় করেন। এভারেস্টের উচ্চতা ২৯ হাজার ৩৫ ফুট।

“এরপর পুরো দল নেমে আসছিল। কিন্তু সাউথ সামিটে (উচ্চতা আনুমানিক ২৮,৭৫০ ফুট) পৌঁছার পর মোহাম্মদ খালেদ হোসেন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ কারণে পা ফেলতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।”

হিমালয়ান গাইডস প্রা. লি.-এর কর্ণধার ঈশ্বরী পাউডেল জানান, ২০ মে সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে বেস ক্যাম্পের প্রতিনিধি কাপুর শ্রেষ্ঠ তাকে ফোন করে এ ব্যাপারটা নিশ্চিত করেন।

খালেদের এবারের এভারেস্ট অভিযান আয়োজনের পারমিট সংগ্রহ করেছিল সেভেন সামিট ট্রেকস (প্রা.) লি.। আর ‘স্পিড এভারেস্ট শেরপা’ পেমবা দরজি তার এভারেস্ট অভিযানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন।

তিনি এর আগেও ২০১১ সালের এপ্রিল – মে মাসে চীনের তিব্বতের নর্থ ফেস ধরে এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি ক্যাম্প ওয়ান (উচ্চতা প্রায় ২৩ হাজার ফুট) পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন। ফুসফুসে তরল জমে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়।

২০০৬ সালে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে ফ্রে পর্বত (সিকিম, ভারত), সিঙ্গু চুলি পর্বত (নেপাল) ও মেরা পর্বত (নেপাল) জয় করেছিলেন।

এর আগে সফলভাবে এভারেস্ট জয় করেছেন আরও চার বাংলাদেশি। তারা হচ্ছেন- মুসা ইব্রাহিম, এম এ মুহিত, ওয়াসফিয়া নাজরীন ও নিশাত মজুমদার।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মুসা ইব্রাহিম ২০১০ সালের ২৩ মে হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করে বাংলাদেশের জন্য অনন্য গৌরব বয়ে আনেন। মুসা ইব্রাহিমের পথ ধরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি এম এ মুহিত ২০১১ সালের ২১ মে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ওড়ান বাংলাদেশের পতাকা। গত বছরের ১৯ মে নেপালের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় হিমালয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন নিশাত মজুমদার। তার সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। এর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশি আরেক নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন ২৬ মে সকালে স্পর্শ করেন এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়া।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম