রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদের দাফন চায় পরিবার

sajal3এভারেস্ট চূড়া জয় করে ফেরার পথে নিহত সজল খালেদের (মোহাম্মদ খালেদ হোসেন) লাশ দেশের আনার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তার শ্বশুর নিজামুদ্দিন খান। এভারেস্ট চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী খালেদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করারও দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজ বাসায় তিনি বাংলানিউজকে এসব কথা বলেন।

নিজামুদ্দিন খান বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা এভারেস্টের চূড়ায় উত্তোলনের পর তার মৃত্যু হয়েছে। তাই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার দাবি জানাচ্ছি।”

বর্তমানে সজলের লাশটি ক্যাম্প থ্রিতে রয়েছে। সেখান থেকে লাশ দেশে আনতে ৩৫ হাজার ডলার লাগবে জানিয়ে নিজামুদ্দিন খান রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

সজলের শ্বশুর আরও জানান, সর্বশেষ ১৭ মে সকাল ১০টায় সজলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। বাংলাদেশের পতাকা যাতে এভারেস্ট চূড়ায় লাগিয়ে আসতে পারেন, সেজন্য দোয়া চেয়েছিলেন সজল।

তবে ২০ মে সোমবার নেপালের মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাব থেকে নিজামুদ্দিনকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয় তিনি সজল খালেদের শ্বশুর কিনা। লাইনটি সমস্যা করছিল, কথা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। নিজামুদ্দিন ‘ইয়েস’ বলে জানতে চান কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা, সজল ঠিকঠাক আছে কিনা। কিন্তু এরপর অন্যজন কিছু বলার আগেই লাইন কেটে যায়।

সজলের বন্ধু আরেক পর্বতারোহী মীর শামসুল আলম বাবু সজলের লাশের ব্যাপারে বলেন, “ক্যাম্প থ্রি থেকে লাশ আনা দুরুহ ও ব্যয়বহুল। রাষ্ট্রীয়ভাবে এর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
sajal3
প্রসঙ্গত, সাউথ ফেস দিয়ে ২০ মে সকাল আনুমানিক ১০টায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন সজল খালেদ। এরপর পুরো দলটি নেমে আসছিল। কিন্তু সাউথ সামিটে (উচ্চতা আনুমানিক ২৮,৭৫০ ফুট) পৌঁছানোর পর সজল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ কারণে পা ফেলতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীমসহ বিভিন্ন মহল থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আদিত্য আরাফাত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম