মুন্সীগঞ্জে ভারী বর্ষনে শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত

bristi21রাজীব হোসেন বাবু: অপরিকল্পিত ভাবে ডোবা-নালা, পুকুর ও নীচু স্থান ড্রেজারের বালুতে ভরাট ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজের অভাবে ভারী বর্ষনে আজ মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ শহর-শহরতলীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে পৃথক ৪ টি পয়েন্টে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছে। এ সড়কের ওই সব পয়েন্টে হাটু পানি অবস্থান করছে। শহরের বাগমামুদালী পাড়ার শীতলা মন্দির ও মালপাড়া এলাকাস্থ জয়কালী মাতা-মন্দির প্রাঙ্গনেও বৃষ্টি পানি প্রবেশ করেছে। ২ টি মন্দিরেই হাটুর উপড়ে পানি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত একটানা ভারী বর্ষন হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে- আজ মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টায় মুন্সীগঞ্জে ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে শহরের বাগমামুদালীপাড়া, ইদ্রাকপুর, মানিকপুর ও নতুনগাঁও এলাকায় শতাধিক বসত-ঘরের উঠানে হাটু অব্দি পানি বিরাজ করছে। এছাড়া শহরের কাছে নতুনগাঁও এলাকাস্থ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাটুর উপরে পানি জমেছে। ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে শহরের কাছে নতুনগাঁও ও শহরের থানারপুল, সদর হাসপাতাল মোড় ও শহরের উপকন্ঠ পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় ৪ টি পয়েন্টে হাটু পানি জমে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সদর থানার সামনের সড়কটিও বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকে।

মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ মো: রতন জানান, এ এলাকার সেন্টু সরকার, বিপদ দাস, অসক দাস, লিটন দাস, অধীর দাসের বাড়িসহ অন্তত ৪০ টি বসত-ঘরের সামনের উঠান-আঙ্গিনা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মানিকপুর ও ইদ্রাকপুর এলাকায় প্রায় ২০ টি বসত-ঘরের সামনের উঠান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
bristi21
ভুক্তভোগীদের দাবী- মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পয়:নিস্কাষন ও ড্রেনেজের অভাবে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাড়ি-ঘর ও বসতভিটে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডোবা-নালা, পুকুর-জলাশয় অপরিকল্পিত ভাবে বালু ভরাট কারনেও শহর-শহরতলীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বসত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। শহরের কাছে নতুনগাঁও ও পঞ্চসার এলাকায় আরো কমপক্ষে ৩০ টি বসত-ঘরের সামনে বৃষ্টি পানি জমে প্লাবিত হয়েছে বলে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র একে ইরাদত মানু বৃষ্টির পানিতে ঘর-বাড়ি প্লাবিত হওয়ার নেপথ্যে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর-জলাশয়, ডোবা-নালা বালু ভরাটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন- ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে বালু ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নাজুকতাই বৃষ্টিতে শহর-শহরতলীর রাস্তাঘাট ও বসত-ভিটে প্লাবন দেখা দিয়েছে। শিগগির পৌর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে পৌর মেয়র দাবী করেন।

ইউএনএসবিডি