মুন্সীগঞ্জে রাজস্ব বিভাগে বড় ধরণের রদবদল!

মো. মোক্তার হোসেন: মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত ০৫.৩০.৫৯০০.৩০৩.১০.০০৩.২০১০ -৪৭১/১ (৩১) নং স্মারকের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলার রাজস্ব বিভাগের ৫৩ জন ভূমি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল হাসান বাদল। বদলীকৃত প্রায় কর্মকর্তার অফিসের আওতাভূক্ত সর্বস্তরের নিরীহ জনগণের সাথে আলাপকালে জানা যায় এ আদেশে তাহারা খুবই সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।


কারণ হিসেবে জানা যায়, ভূমি কর্মকর্তারা নামজারীর ক্ষেত্রে যেখানে রাজস্ব বিভাগে ২৫০ টাকা জমা হওয়ার কথা সেখানে প্রতিটি কেইসে সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা হইতে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। ২ টাকার প্রতি পাতা খাজনা রশিদের জন্য ৫০০-১০০০ টাকা দিতে হয়। এত টাকা নেওয়ার পরও জনসাধারণের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়। অথচ জনসাধারণের রাজস্বের টাকায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। জনসাধারণ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট হতে একটু ভাল ব্যবহার ছাড়া তেমন কিছুই আশা করেন না। উচ্চ উৎকোচের অফিসের মধ্যে অন্যতম রয়েছে রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এদের হাত থেকে মস্জিদ, মাদ্রাসা, গীর্জা প্রতিষ্ঠানও রেহাই পায়নি। তবে শেখরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর আওতাধীন সর্বস্তরের জনসাধারন, মেম্বার, চেয়ারম্যান, নেতৃবৃন্দ জানান ভিন্ন কথা- তারা ভূমি কর্মকর্তার আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এযাবৎ নাকি বিদায়ী তহসীলদারের মত আর কোন ভাল ও দক্ষ তহসীলদার এখানে আসেননি।

বর্তমানে ভূমি অফিস সর্বোচ্চ দূর্নীতিগ্রস্থ তাই মুন্সীগঞ্জের ভূমি অফিস গুলোকে দূর্নীতিমুক্ত পরিবেশ রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট সর্বোস্তরের জনগণ দাবী জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসকের অফিস হতে জানায় যে, অনেক তহসীলদার, সার্ভেয়ার নাকি অনেক টাকার বিনিময়ে বদলী ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন মহল হইতে সুপারিশ করেছেন। জেলা প্রশাসক কোন তদবীরকে তোয়াক্কা না করে উক্ত আদেশ বহাল রেখেছেন। জেলা প্রশাসকের নিকট সর্বস্তরের জনগণের দাবী যেন ভাল কাজের পুরষ্কার ও মন্দ কাজের তিরষ্কার হয়। তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা স্বার্থক হবে। এই উদ্যোগের সহায়তা করা এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ