লেখাপড়ার খরচ নিজেই যোগাড় করেছে আনিকা

anikaআনিকা আক্তার(১৬)। ইচ্ছে লেখাপড়া করে অনেক বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার। কিন্তু সাধের সমপরিমাণ সাধ্য ছিলনা তার। কিন্তু কোনো বাধাই আনিকারকে তার সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি। অভাব আর অনিশ্চয়তার মাঝেও নিজের পড়াশোন‍ার খরচ নিচেই উপার্জন করেছে সে। তবুও ছেদ পড়তে দেয়নি পড়াশোনায়।

প্রতিদানে আনিকা এবার এসএসসি পরীক্ষায় তার স্কুল মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের ফুলতলা মোহাম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

এ বিদ্যালয়ের ১০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আনিকা বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।


কোনো গৃহশিক্ষক ছাড়াই এবং নিজে অপর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে উপার্জিত টাকায় নিজের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করেছে আনিকা।

আনিকা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা ফুলতলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ও জুলেখা বেগমের বড় মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে বসবাস করছে তারা।

২০০৩ সালে ৬ বছর বয়সে মারা যান বেসরকারি জাহাজে কর্মরত শ্রমিক আনিকা আক্তারের বাবা মৃত হাবিবুর রহমান। শ্বশুর বাড়ির মানুষজনও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় জুলেখা বেগম সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন।
anika
জুলেখা বেগম বাংলানিউজকে জানান, তার দরিদ্র বৃদ্ধ বাবা জাহেদ আলীর সহায় সম্পদ না থাকায় অন্যের জমিতে বদলি হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ অবস্থায় বিধবা মেয়ে ও এতিম নাতীনদের ভরণপোষন করা সম্ভব ছিলনা। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সেলাই মেশিনে দর্জির কাজ শুরু করেন। বাড়িতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের দর্জির কাজ করে প্রতিমাসে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা আয় করে খাবারসহ দুই মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মা জুলেখা বেগম আরও জানান, এতেও সংসারে প্রতিনিয়ত অভাব অনটন লেগে থাকায় বড় মেয়ে আনিকা আক্তার নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামের একাধিক স্কুলছাত্রকে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করে এবং নিজের খরচ নির্বাহ করে।


নিত্য অভাব-অনটন নিয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কতটা সহযোগিদা তরতে পারবেন তা নিয়ে উৎকন্ঠিত মা জুলেখা বেগম। তাই তিনি মেয়েতে ডাক্তার হিসেবে গড়ে তুলতে সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম