বিচার চেয়ে আসামি শিশু গৃহকর্মী কাজল!

nazma1শিশু গৃহকর্মী কাজলীর (১১) কাছে এখন আতঙ্কের নাম পুলিশ কর্মকর্তা আবুল বাসার ও তার স্ত্রী জান্নাত আইরিন। তাদের দু’জনের নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করলেও পুলিশ কর্মকর্তার রোষানল থেকে মুক্তি পাননি শিশু গৃহকর্মী কাজলী।

প্রতিনিয়ত তাকে নির্যাতনের বিচার পাওয়া তো দূরে থাক, উল্টো ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা চুরি মামলার আসামি হয়ে পলাতক জীবনযাপন করছেন ওই শিশু গৃহকর্মী কাজলী।

পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পদে থাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা নারী ও শিশু নির্যাতন আইন থেকে রক্ষা পেতেই শিশু গৃহকর্মী নামে মিথ্যে চুরি মামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন কাজলীর ফুফ লাকী বেগম।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বিভাগে কর্মরত ওসি আবুল বাসারের ঢাকার গুলশানের বাসায় গৃহকর্মী কাজলী চুরি করে পালিয়েছে মর্মে গুলশান থানায় গত ২৫ মার্চ ৩৮১ ধারায় চুরির মামলা (নং-২৭) রুজু করেছেন।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার আলীপুর উপজেলার কিসমত মধুপুর গ্রামের ফাজেল মিয়ার ১১ বছর বয়সী মেয়ে কাজলী তার ফুফর কাছে থাকতো। সে মুন্সীগঞ্জ শহরের নয়াপাড়া হাটলগিঞ্জ এলাকার কুদ্দুস মন্সীর বাড়িতে ভাড়া থেকে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা আবুল বাসার মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্ব পালনের সময় তার গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

শিশু কাজলীর ফুফু আসমা বেগমের মাধ্যমে তাকে ঢাকার গুলশানের নিজ বাসায় গৃহকর্মীর কাজে নিয়ে যান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

সেখানে কাজ করার সময় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী জান্নাত আইরিনের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হন কাজলী। এতে নিরুপায় হয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে মুন্সীগঞ্জে ফুফুর কাছে চলে আসে সে।


বর্তমানে নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী কাজলী ঢাকার গুলশান থানার দায়ের করা চুরি মামলার আসামি হয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে।

শিশু গৃহকর্মী কাজলী আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, “কাজ করতে একটু দেরি হলে ওসি সাহেবের স্ত্রী আইরিন ম্যাডাম চুল ধরে মারধর করতো। এছাড়া লাথি দিতো। দিনভর কাজ করলেও সকালের খাবার দুপুরে আর দুপুরের খাবার রাতে দিত। তাও আবার টক পান্তা ভাত খেতে দিতো। টক হওয়ায় খেতে পারতাম না।”

কাজলী আরও বলেন, “একদিন তরকারি কাটাতে দেরি হওয়ায় ধাক্কা দিয়ে ধারালো বটির উপরে ফেলে দিলে হাত কেটে যায়। এ সময় আইরিন ম্যাডাম তুই মরে যা তোর লাশ ট্রাঙ্কে ভরে ড্রেনে ফেলে দিব বলে হুমকি দেয়। এতে ভয়ে পালাইয়া আসি।”

চুরি মামলা প্রসঙ্গে শিশু গৃহকর্মী কাজলী বলেন, “এক জামা কাপড়ে বাড়ি থেকে পালাইয়া আইছি। ওই বাড়িতে আমার জামা-কাপড় ফালাইয়া আইছি।”

কাজলী বলেন, “কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুর উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলাম। বাবা-মা দরিদ্র হওয়ায় লেখাপড়া ছেড়ে কাজের তাগিদে মুন্সীগঞ্জে আইছি। আইরিন ম্যাডাম অনেক মারধর করায় এখন অন্য বাড়িতে কাজ করতেও ভয় হইতাছে।”

কাজলী আক্তারের ফুফ লাকি বেগম বলেন, “ওসি সাহেব ও তার স্ত্রী কাজলীকে মারধর করবে ভাবতে পারি নাই। কাজলীর বিরুদ্ধে চুরি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”


চুরি মামলা প্রসঙ্গে ঢাকার গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। তবে শিশু গৃহকর্মী ও মামলার আসামি কাজলীর পরিবার দাবি করেছে সে চুরি করেনি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা আবুল বাসার ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে যোগদান করেন। তিনি দায়িত্ব পালনের এক পর্যায়ে চলতি বছরের ২১ মার্চ তাকে প্রত্যাহার করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বিভাগে লাইনওয়ারে অতিরিক্ত ওসি হিসেবে রাখা হয়।

তিনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বিভাগে লাইন ওয়ারে থাকলেও বুধবার পর্যন্ত টানা ৪৮ দিনের বেশি সময় ঢাকাতেই অবস্থান করছেন ছুটির অজুহাতে।

একাধিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাসার ঢাকাতে অবস্থান নিয়ে আবারও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে যোগদান করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন।
nazma1
অন্যদিকে তার স্ত্রী জান্নাত আইরিন দুই ছেলে নিয়ে বসবাস করছেন গুলশানের অভিজাত এলাকার একটি অভিজাত বাড়িতে। দুই ছেলেই পড়ালেখা করছে সেখানকার অভিজাত একটি স্কুলে। আবুল বাসার ওসি পদে চাকরি করলেও স্ত্রী সন্তানদের রেখেছে কোটিপতি ব্যবসায়ীদের আদলে।

শিশু গৃহকর্মী কাজলীকে নির্যাতন প্রসঙ্গে বুধবার বিকেল পৌনে ৫টায় পুলিশ কর্মকর্তা আবুল বাসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গৃহকর্মী কাজলীকে মারধর করার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “কাজলী ৪ থেকে ৫ দিন ছিল আমার বাসায়। হঠাৎ পালিয়ে যাওয়ায় ভয় পেয়ে ছিলাম। তাই মামলা নয়, গুলশান থানায় জিডি করেছি।”

তবে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী জান্নাত আইরিনের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


===========================

কাজের মেয়ে নির্যাতন : চুরির মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে কাজলী

পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও মামলা থেকে মুক্তি পায়নি শিশু কাজের মেয়ে কাজলী (১১)। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সাবেক ওসি আবুল বাসার ও তার স্ত্রী জান্নাত আইরিন আতঙ্কে এখন দিন কাটছে শিশুটির। নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে যাওয়ার পর দায় মুক্তি থেকে রক্ষা পেতে উল্টো এ কাজের মেয়ের বিরুদ্ধে ওসি গত ২৫ মার্চ ঢাকার গুলশান থানায় চুরির মামলা করেছেন। এ মামলায় শিশুটি এখন গ্রেফতার ও ফের নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা থেকে ওসি ও তার স্ত্রী রক্ষা পেতেই এ মামলা করেছেন বলে শিশু গৃহকর্মী কাজলীর ফুফু লাকি বেগম।

ওসি আবুল বাসারকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়ার পর গত ২১ মার্চ থেকে তিনি মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বিভাগে লাইন ওয়ারে অতিরিক্ত ওসি হিসেবে রয়েছেন। এর আগে তিনি ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ছুটি নিয়ে তার ঢাকার আলিশান বাড়িতে অবস্থান করছেন।


জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার আলীপুর উপজেলার কিসমত মধুপুর গ্রামের ফাজেল মিয়ার শিশু মেয়ে কাজলী মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় তার ফুফুর সঙ্গে ভাড়াটিয়া বাড়িতে থাকতো। তার ফুফু লাকি বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ওসি থাকাকালে আবুল বাসারের রান্নাবান্না করে দিতেন। এ সুবাদে শিশু লাকিকে ওসি আবুল বাসার তার ঢাকার গুলশানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে কাজে যোগ দেয়ার পর থেকেই গৃহকর্ত্রী ওসির স্ত্রী জান্নাত আইরিন নানা অজুহাতে তার ওপর নির্যাতন চালায়। প্রচন্ড নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ২২ বা ২৩ মার্চ ওই ওসির বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মুন্সীগঞ্জে ফুফুর কাছে চলে আসে কাজলী। এরপর তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় চুরির মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে এখন কাজলীর দিন কাটছে।
nazma
এ ব্যাপারে ওসি আবুল বাসার জানান, কাজলীকে মারধর ও নির্যাতন করার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বলেন, কাজলী ৪-৫ দিন তার বাসায় কাজ করেছে। এ সময়ের মধ্যে হঠাৎ পালিয়ে যাওয়ার ভয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে।

জাস্ট নিউজ
=================