প্রধানমন্ত্রীর আহবান

ইমদাদুল হক মিলন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন। শুক্রবার ৩ মে, সন্ধ্যাবেলা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বহু মানুষের সমাবেশ। সেই সমাবেশে তিনি অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কথা বললেন। সাভারের রানা প্লাজা ধস, হেফাজতে ইসলামের আজকের অবরোধ এসব নিয়ে কথা। অত্যন্ত শান্ত-স্নিগ্ধ সুরে, ধীরস্থির ভঙ্গিতে কয়েকটি বিষয়ে এত সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন, অন্যরা কে কিভাবে তাঁর কথা শুনলেন জানি না, আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলাম। তাঁর স্মৃতিশক্তি ও পড়াশোনার পরিধি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আমার ছিল, সেই ধারণা আরো দৃঢ় হলো তাঁর সেদিনকার কোনো কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যায়। যেমন ভাস্কর্য ও মূর্তির ব্যবধান, যেমন ইসলামে নারীর অবদান।

ভাস্কর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ পাথর খোদাই করে অবয়ব তৈরির শিল্প আর মূর্তি শব্দের অর্থ প্রতিমা, মূর্তিপূজা। ভাস্কর্যের কোনো পূজা হয় না, পূজা হয় মূর্তির। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে বহু ভাস্কর্য রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-কালচারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। তবে সরকার কোনো অশ্লীল ভাস্কর্য নির্মাণ করতে দেবে না। ইসলাম নারীর মর্যাদা এবং যথাযথ অধিকারদানে বিশ্বাসী- এই মহান উক্তির ব্যাখ্যায় তিনি

বিবি খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বললেন, ‘যখন তাঁর বয়স ৪০ এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স ২৫, তখন তাঁদের বিয়ে হয়। সর্বপ্রথম তিনিই মহানবী (সা.)-এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। ২৫ বছর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে দাম্পত্যজীবন যাপন করেন। হজরত খাদিজা (রা.) তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির জন্য ‘তাহিরা’ (পবিত্র) নামে সুপরিচিতা ছিলেন। ধনবতী এই বিদুষী মহিলা নিজের অর্থসম্পদ দিয়ে ব্যবসায় আরম্ভ করেন। বিয়ের ১৫ বছর পর মক্কার অদূরে অবস্থিত হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হলে তিনি একটু ভীত হন; তখন হজরত খাদিজাই (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দেন। মহানবী (সা.) মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে সবাই তাঁর সঙ্গে শত্রুতা আরম্ভ করে এবং তাঁর ওপর অমানুষিক অত্যাচার শুরু হয়। তখন হজরত খাদিজাই (রা.) তাঁকে সাহস দিতেন, সব রকম সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। হজরত খাদিজা (রা.) তাঁর অগাধ ধনরত্ন ইসলামী আন্দোলনে ব্যয় করেন।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কাছে আমার আহবান, আসুন, শান্তির ধর্ম ইসলামকে হৃদয়ে ধারণ করে সবাই দেশের উন্নয়নের জন্য, জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করি। সম্প্রতি রানা প্লাজা ধসের ফলে নিহতদের পরিবার ও আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনো বাধা না হয় সবার প্রতি এ আবেদন জানাই এবং এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।

পবিত্র ধর্ম ইসলাম। এই ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে ধর্মের মানমর্যাদা যেন কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের হঠকারিতা বা দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বা বক্তব্যের কারণে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি আমাদের কারোরই কাম্য হতে পারে না।’

কালের কন্ঠ