হাতিমারায় এক ডজন স্পট এখন বিয়ার-মদ-ইয়াবার হাট !

hatimara policestationশেখ মো: রতন: মুন্সীগঞ্জ সদরের হাতিমারা ও সিপাহী পাড়া দেশী-বিদেশী মদ-বিয়ার ও ইয়াবার ব্যবসার নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ওই ২ টি এলাকায় ২৫ লাখ টাকার মদ-বিয়ার বিক্রি হচ্ছে। এ থেকে পুলিশ মাসিক মাসোহারা পায় অর্ধলক্ষ টাকা। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খসরু জেলে বসে এ মদ-বিয়ার বিক্রির নিয়ন্ত্রন করছে। হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বদৌলতে দিন দিন এ মাদক ব্যবসা প্রসার ঘটছে। মাদক বিক্রির নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাতিমারা-সিপাহী পাড়া-সুখবাসপুর সড়কটি। এ সড়ক পথে জেলা শহরের উপকন্ঠ পঞ্চসার পেট্ট্রোল পাম্প এলাকা থেকে শুরু করে রামপালের ভাঙ্গা ও ধলাগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এ রমরমা মাদক ব্যবসা। এলাকাবাসীর মন্তব্য হচ্ছে- মাদক ব্যবসায়ীদের হাত যত লম্বাই হোক না কেন- পুলিশ পারে না এমন কোন কাজ নেই। পুলিশ চাইলেই এ মাদক ব্যবসা গুড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু হাতিমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফরহাদ মিয়ার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী খসরুর রয়েছে গোপন আঁতাত। ফলে জেলবন্দি থেকেও পুলিশের হাত হয়ে এ শীর্ষ সন্ত্রাসীর চেলা-পেলাদের দ্বারা মাদকের শক্তিশালী ঘাঁটি হয়ে উঠেছে হাতিমারা জোনটি। পঞ্চসার পেট্ট্রোল পাম্প এলাকা থেকে শুরু করে রামপালের ভাঙ্গা ও ধলাগাঁও পর্যন্ত মাদকের ছড়াছড়ি চলছে।

এদিকে- এ সড়কের একডজন স্পটে প্রতিদিন বসছে মাদকের হাট। সিপাহীপাড়া মোড়, বল্লাল বাড়ি, হাতিমারা, সুখবাসপুর, ধলাগাঁও, ধলাগাঁও বাজার, রামপালের দিঘী, বজ্রযোগিনী লিংক রোডসহ এক ডজন পয়েন্টে লাখ লাখ টাকার বিয়ার, মদ ও ইয়াবার হাট বসে। এ সব হাটে প্রত্যেহ মাসোহারা আদায় করেন হাতিমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই ফরহাদ। বর্তমানে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হয়ে উঠেছে। সবাই জানেন, মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখেন চোখে অনেকেই-তবু কারোই যেন প্রতিবাদ করার সাহস হয় না। কেননা- যেখানে পুলিশই নিয়ন্ত্রন করবে মাদক প্রসার যেন না ঘটে। সেখানেই পুলিশই রকের জায়গায় ভকের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছে। এক ডজন স্পটে প্রতিদিন ২৫-৩০ লাখ টাকার মদ-বিয়ার ও ইয়াবা বিক্রি করা হচ্ছে। দেশীয়-বিদেশী তৈরী সব ধরনের মদ মিলে এখানে। বিয়ারের ক্যানের ছড়াছড়ি চলে।


এদিকে-হাতিমারা জোন মাদকের ভয়াবহ থাবা মেলে ধরেছে-এটা দিবালোকের সত্য হলেও সেবী কিংবা ক্রেতার জন্য অনেকটা বুমেরাং হয়ে উঠে প্রায়শ:। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খসরুর পালিত মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যতা থাকায় বিক্রেতা ও পুলিশের যোগাসাজশে হাতিমারা জোনের এক ডজন মাদকের হাটে ক্রেতা-সেবীরাই ধরা পড়ে আসছে পুলিশের হাতে। এতে মাদক বিক্রেতারা থাকছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদক সেবীদের ধরছে হাতিমাড়া পুলিশ। পুলিশ মাদক বিক্রেতাদের ধরে না, ধরে শুধু সেবী-ক্রেতাদের-এমন দাবী করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক সেবী। নিহারা নামে (ছদ্ম নাম) এক মাদক সেবী জানিয়েছেন- সম্প্রতি হাতিমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফরহাদ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ২ কার্টন বিয়ারসহ মাদক সেবী নিহারাকে আটক করা হয় সিপাহী পাড়া এলাকা থেকে।

এ সময় এক লাখ টাকা নিয়ে নিহারাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে এস.আই ফরহাদ পরে ওই মাদক সেবীকে ছাড়েনি। এর কারন খতিয়ে দেখে জানা গেছে- নিহারার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী খসরুর চেলাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বিক্রেতারা। আবার বিক্রেতারাই তাকে ধরার জন্য পুলিশকে তথ্য দিয়েছে। কাজেই মাদক সেবীদের কাছে বুমেরাং হয়ে উঠেছে হাতিমারা জোনের এক ডজন মাদক বিক্রির স্পট। এতে বার বারই মাদক সেবী বুমেরাংয়ের শিকার হচ্ছেন।


এ ব্যাপারে হাতিমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই ফরহাদ মিয়াকে মাদক বিষয়ে প্রশ্ন করলে এস.আই ফরহাদ এ প্রতিবেদককে মাদক-মামলায় জড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়ে বলে- আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে ভালো হবে না। আমি মুন্সীগঞ্জে ভাইসা আসি নাই।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন তার বিরুদ্ধে আনিত একাধীক অভিযোগ শুনেছি। হাতিমাড়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ফরহাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সাংবাদিককে মামলা দেয়ার হুমকি দেয়ার বিষয়টি দু:খ্যজনক। আমরা এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেব।

টাইমস্ আই বেঙ্গলী