মেঘনায় ২১ দিনে ৪৪ কার্গোতে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা সেতু এলাকা থেকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছটাকী এলাকা পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটারে ডাকাতি ও চাঁদাবাজদের অপতৎপরতা বেড়ে গেছে। গত ২১ দিনে এ এলাকায় সাতটি কার্গো থেকে ডাকাতেরা অর্ধলক্ষাধিক টাকা, মুঠোফোনের সেটসহ অন্যান্য মালামাল লুটে নিয়েছে। ডাকাতদের হামলায় আট শ্রমিক আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৭টি কার্গোতে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। চাঁদাবাজেরা এসব কার্গো থেকে আরও অর্ধলক্ষাধিক টাকাসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে।

স্থানীয় ও নৌযানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতি সপ্তাহে সিলেট থেকে পাথর, বালু, কয়লা ও চুনা পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বোঝাই কার্গো এ নৌপথ হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। এ সময় এগুলো ডাকাত ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে।


নৌশ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল চরঝাপটা এলাকায় এমভি মোয়াজ্জেম, পান্না, ঘরি ও শিখা নামের চারটি কার্গোতে ডাকাতি হয়। ডাকাতেরা চালক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা ও মুঠোফোনের সাতটি সেট নিয়ে যায়।

এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চার শ্রমিক আহত হন। ৯ এপ্রিল গজারিয়া লঞ্চঘাটের তিন কিলোমিটার দক্ষিণে এমভি সিমু-রিফাত ও ময়না নামে কার্গো থেকে ডাকাতেরা নগদ ২৩ হাজার টাকা ও মুঠোফোনের নয়টি সেট ও তিনটি ঘড়ি লুটে নিয়ে যায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন শ্রমিক আহত হন। ১৯ এপ্রিল মেঘনা সেতু এলাকায় ২০টি কার্গো থেকে একদল চাঁদাবাজ ১৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
১৮ এপ্রিল গজারিয়া লঞ্চঘাটের কাছে এমভি সূর্যশিখা নামে একটি কার্গোতে ডাকাতি হয়। ডাকাতেরা ওই কার্গো থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতদের হামলায় কার্গোর চালক আবুল কালাম আহত হন। ২১ এপ্রিল এমভি মাসুম, গুয়াখোলা ও বিউটি অব মোহনপুরসহ ১৭টি কার্গো থেকে চাঁদাবাজেরা ৫০ হাজার টাকা ও মুঠোফোনের কয়েকটি সেট নিয়ে যায়।

এমভি অগ্রণী কার্গোর চালক ছারোয়ার উদ্দিন জানান, ২২ এপ্রিল পুলিশের টহল দল নিয়ে ২৫টি কার্গোর একটি বহর ওই নৌপথ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বহরের সামনে থাকা সুগন্ধা-২ ও খালিদ হাসানসহ কয়েকটি কার্গোতে চাঁদার জন্য হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী।
ওই সময় পেছনে থাকা পুলিশের টহল দল চাঁদার টাকাসহ পাঁচ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন শাহীন মিয়া, ইউনুস আলী, রাশেদ মিয়া, সুমন ভূঁইয়া ও আফজাল হোসেন। তাঁদের সবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়।


বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহ আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই নৌপথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

নৌপথে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করলেও ডাকাতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে।

প্রথম আলো