বিএনপির বিশাল প্রতিবাদ সভা

moni24aরাহমান মনি
সাম্প্রতিক বাংলাদেশে গণহত্যা, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, সর্বোপরি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাপান শাখা টোকিওতে এক বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিয়ে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। দলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীবৃন্দ ছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী মিডিয়া কর্মীবৃন্দ, ইসলামিক জাপান এবং সেভ হিউম্যানিটি ইন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ।

আলমগীর হোসেন মিঠুর পরিচালনায় সভার শুরুতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় প্রধান অতিথিকে। আবুল খায়েরের কোরান তেলওয়াতের পর বক্তব্য রাখেন সাদেকুল হায়দার, হায়দার হোসেন, তৌহিদুল আলম রিপন, মোবারক হোসেন হৃদয়, এটিএম জামাল, নূর হোসেন খান রনি, সিরাজুল কাদের, আজিজুর রহমান শিমুল, মাসুদ রানা, মকবুল হোসেন মোল্লা, হাফেজ আলাউদ্দিন, জসীম উদ্দিন, ফয়সাল সালাউদ্দিন, কাজী আসগর আহমেদ সানী, কাজী এনামুল হক, মীর রেজাউল করিম রেজা, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।


সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার সময় এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার এবং খুন করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। তখন জামায়াত বা রাজাকাররা ক্ষমতায়ও ছিল না আর খুনও করেনি। অথচ তার খুনের পর একটি লোকও রাস্তায় নামেনি এবং খুনও হয়নি। আর মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর লাখো জনতা রাস্তায় নেমেছে। সরকারি পেটোয়াবাহিনীর হাতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাহলে কে বেশি জনপ্রিয়? সাঈদী না মুজিব?

তারা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন দিয়ে দেখুন জামানত ফিরে পাবেন না। শাহবাগে যাদের দিয়ে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চ বানিয়েছেন, সেই একই সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করব না, অনুরোধ করব কোনো বাধার সৃষ্টি করবেন না, দেখুন প্রকৃত গণজোয়ারের থুথুতেই শাহবাগীরা ভেসে যাবে।


প্রধান অতিথি ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে অথচ কাজের সঙ্গে মিল নেই। ইতোমধ্যেই জনগণ তা বুঝে গেছে। বিএনপি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গড়া দল। তিনি হলেন পাকিস্তান সৃষ্টির মধ্যেই ভাঙনের সুর ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু যে যে কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন চেয়েছিল আজ ৪২ বছর পরও তার বাস্তবায়ন নেই। আজ দেশে গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের মানুষ আজ পাকিস্তানি আমল থেকেও বেশি নির্যাতিত। আগে বলা হতো ৪২টি পরিবারের হাতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ছিল। আর এখন? তা তো জনগণ দেখতেই পাচ্ছে। বাংলাদেশকে কারা আজ বাবার সম্পত্তি মনে করছে জনগণ তা জানে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আজকের মতো এমন ভয়াবহ বিভক্তি কখনোই ছিল না। একটা দেশে নানান মতের মানুষ থাকবে। কিন্তু অপ্রত্যাশিত সত্য হলো দেশ আজ সর্বক্ষেত্রেই দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পরিবার, গ্রাম, সমাজ সর্বক্ষেত্রেই এই বিভক্তি।

তিনি বলেন, সরকার দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতি, উপজাতি বিভক্ত করে রেখেছে। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তা দূর করার চেষ্টা করব, সুশাসন দেয়ার চেষ্টা করব, অন্যান্য দেশ তাদের দেশের প্রবাসীদের জন্য যা যা করে আমরা তা করার চেষ্টা করব। উপজাতি উপাধি তুলে দিব। উপমানুষ যদি না থাকে তাহলে উপজাতিও থাকবে না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই হবে আমাদের পরিচয়। এদেশ সবার।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানোর নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। পুরো দেশটাই এখন কারাগারে পরিণত।

সাপ্তাহিক