গুলির প্রতিশোধে ৮ খুন

benga babuকিলিংয়ের ভয়ঙ্কর বর্ণনা দিল ব্যাঙা বাবু
‘বিনা কারণে ওরা আমাকে নির্দয়ভাবে গুলি করেছিল। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাই। এরপর সুস্থ হয়ে ওদের সবাইকে (৮ জনকে) গুলি করে হত্যা করেছি।’ এমন স্বীকারোক্তি দিলেন মিরপুর এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. নাজমুল হাসান ওরফে ব্যাঙা বাবু। বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই সন্ত্রাসী। আর ৮ জনকে খুনের কথা সাংবাদিকদের কাছেও অকপটে স্বীকার করলেন তিনি। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়ে বাবু বলেছেন, ২০০১ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। দুপুরের দিকে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নান্টুর বড় ভাইয়ের বাসার সামনে যাই। উদ্দেশ্য ছিল- নান্টু ও তার ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে নালিশ করবো। আমার ছোট ভাইদের মারধরের বিচার চাইব। কিন্তু বাড়ির গেটের সামনে যাওয়ার পরপরই নান্টুর দেখা পাই। সে আমাকে দেখেই তার কোমরে হাত দেয়। তখন বুঝতে দেরি হয় না যে, নান্টু গুলি করার জন্যই কোমরে হাত দিয়েছে। আমিও ভুল করিনি। সঙ্গে সঙ্গে আমি এবং নজরুল মিলে দুই পিস্তলের ৪ গুলি দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করি।


ঠিক একইভাবে একে একে ৮ জনকে খুনের বর্ণনা দেন তিনি। এর বাইরে তিনি কার কার নির্দেশে কোন্ কোন্ গার্মেন্টসে গুলি চালিয়েছেন, জখম করেছেন কতজনকে, তার সবই এই জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার নেপথ্য কারণও।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ব্যাঙা বাবু মিরপুরের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে অন্ততপক্ষে ৮টি হত্যা ও অসংখ্য ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর সমপ্রতি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। পরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানাধীন একটি গ্রামে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির সময় জনতার হাতে গণপিটুনি খান। পরে পুলিশে সোপর্দ করার পর তার আসল পরিচয় জানাজানি হয়। গোয়ালন্দ থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে। পরে জামিন নিয়ে বাইরে বেরোলে ফের ধরা পড়েন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ব্যাঙা বাবু গোয়েন্দা পুলিশের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চান। বিনিময়ে সন্ত্রাসী জীবনের সকল অপকর্মের কথা অকপটে স্বীকার করেন। একইসঙ্গে তার দেয়া তথ্য মোতাবেক দিয়াবাড়ি বিআইডব্লিউটিএ’র নিমগাছ তলার মাটির নিচ থেকে দু’টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা ও গুলি করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ২০০১ সালের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে নান্টুকে গুলি করে হত্যা করেন। জুলাই মাসে পাইকপাড়ায় শওকত আলী হত্যাকাণ্ডের সফল মিশন চালান। এর ৪ মাস পর ডিসেম্বরে নান্টুর আরেক সহযোগী আলীকে গুলি করে হত্যা করেন। ২০০২ সালে সেগুন বাগিচায় হত্যা করেন মুন্সী বাবুকে। ২০০২ সালে হত্যা করেন আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী ঘোড়া মাসুদকে। এরপর চাঁদার দাবিতে মিরপুরে ২ নম্বর এলাকার গার্মেন্টস-এর ম্যানেজারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। ওই গুলিতে ম্যানেজার প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।


বাবু গোয়েন্দাদের কাছে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কারণে তিনি সন্ত্রাসী হয়েছেন। গুলি করেই গুলির বদলা নিয়েছেন। গোয়েন্দারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে বাবু জানান, তিনি গোলবারে দাঁড়ালে গোল হতো না। বল ধরতাম জাম্প দিয়ে। সেই জাম্প নিয়ে সবাই হাসাহাসি করতো। বলতো ব্যাঙের মতো লাফ দিয়ে গোল বাঁচিয়েছি। সেই থেকে আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ব্যাঙা’ । পরিচিতি পাই ‘ব্যাঙা বাবু’ হিসেবে । মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার পয়সা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাতেম আলীর ছেলে তিনি। ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন রাজধানীর মিরপুর এলাকায়। থাকতেন শাহ আলী থানাধীন সি ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে।

ইত্তেফাক