নেতৃত্ব সংকটে শহর বিএনপি

Town_Bnp_Munshiganj1মুন্সীগঞ্জ শহর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। নেতৃত্ব সংকটের কারণে এখানে বিএনপির রাজনীতি তেমন বেগবান হচ্ছে না বলে বোদ্ধামহল মনে করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের ওপর শহর বিএনপির রাজনীতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জেলা শহরের দায়িত্ব অনেক। সিটির রাজনীতির ঢেউ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি অনেক গুলো হরতালের ডাক দিলেও একটি হরতালও জমেনি। হরতালের আগের দিন মুন্সীগঞ্জে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতা কর্মীদের মুন্সীগঞ্জ বিএনপি অফিসের সামনে সমবেত হতে দেখা যায়। এই মিছিলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভাই মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় মিছিল মুক্তারপুর থেকে মুন্সীগঞ্জে আসে। বিএনপির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকা থেকে আগের মতো সেইভাবে বর্তমানে মিছিল আসে না। কোন্দল আর উপ-কোন্দল মুলত এর জন্য দায়ী। কোন কোন হরতালে আব্দুল হাই মুক্তারপুর থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে মুন্সীগঞ্জ পার্টি অফিসে আসেন। পরে তিনি শহরে মিছিল বের করেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ থেকে চলে গেলে শহরের অন্যান্য নেতা কর্মীরা হরতালের মাঠ ছেড়ে চলে যান।


বিএনপি যে কটি হরতালের ডাক দিয়েছে তা সুপার মার্কেট থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত শুধুমাত্র বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। শহর বিএনপির অনেক নেতা কর্মী নানাভাবে আ’লীগের সাথে গোপনে ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে মুন্সীগঞ্জে কোন হরতাল আগের মতো আর জমে উঠছে না। তাছাড়া এখানকার অনেক নেতা কর্মী বিএনপি নেতা এম. শামসুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। যাতে আব্দুল হাই মুন্সীগঞ্জে কোন আন্দোলন সহসা চাঙ্গা করতে না পারেন। মিরেশ্বর থেকে মুক্তারপুরে সব সময়ে হরতাল পালিত হতে দেখা যায়। তবে বিএনপি নেতাদের সুতার কল হরতালের দিন খোলা রাখতে দেখা যায়। দরিদ্র রিক্্রা চালকের রিক্্রা বন্ধ। দরিদ্র চায়ের দোকান হরতালে বন্ধ। তবে কেন সুতার কল খোলা থাকে তা অনেককে ভাবিয়ে তোলছে।

শহর বিএনপির সভাপতি হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র একেএম ইরাদত মানু। সরকার বিরোধী আন্দোলন ও হরতালের আগের ও পরের দিনের কর্মসূচিতে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু তার সাথে দেওভোগের বিএনপির নেতা কিংবা সমর্থকদের উল্লেখযোগ্যভাবে সেই দিন গুলোতে দেখা যায় না। একলা চলো নীতিতে কি মানু একা? সিটির পদবী ও মেয়রের পদবীর কারণে তার নিজস্ব জনসমর্থক থাকার কথা। আপাতত সাদা চোখে তা দেখা যাচ্ছে না। হরতালে তিনি পৌরসভায়ও তেমন আসেন না। কিন্তু পৌরসভার গাড়ী নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইকে ও অন্যান্য নেতাদের নিয়ে মুক্তারপুরে যান। তার এই ধরণের রাজনীতিতে অনেকেই হতাশ।
Town_Bnp_Munshiganj1
দক্ষিণ ইসলামপুর বিএনপির অধ্যষিত এলাকা। এখান থেকে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন শহিদুল ইসলাম। কিন্তু এই ইসলামপুরে চলছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। একটি রাজনীতির নেত্বত্ব দিচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিউলর এনামুল হক। আর আরেকটির নেত্বত্ব দিচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। এনামুলের সাথে শহিদুলের সাপ বেজি সম্পর্ক। এখানে আবার উপকোন্দলও রয়েছে। অতি সম্প্রতি এই কোন্দল বড় আকার ধারণ করেছে। সিমু কাউন্সিউলরের ভাইয়ের সাথে বিবাদের জের হিসেবে কোন্দলের ঢেউ মহাআকার ধারণ করেছে। কোন্দলের তাপমাত্রার ভয়বহতায় রাজপথ কাপানো শহিদুল ইসলামের ভাগ্নে সুলতান আহমদ ও বাবুল গংরা রাজনীতিতে রয়েছেন নিরব। ছাত্রদলের রাজনীতি এক সময় মুন্সীগঞ্জ শহর গরম করে তোলতো সেইসব নেতাদের আর রাজনীতির মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে না। ভিপি নুরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান ও কাজী বিপ্লবসহ তাদের সমর্থকদের বর্তমান আন্দোলনে দেখা যায় না। এসব নানা কারণে দক্ষিণ ইসলামপুর থেকে বর্তমান আন্দোলনে সেইভাবে নেতা কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ ইসলামপুরের আবুরা এক সময় মুন্সীগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতো। কিন্তু তাদের পরিবারের কাউকে আর বিএনপির রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি থেকে দুই দু’বার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রয়াত আব্দুল খালেক মাস্টার। তিনিও এক সময় শহর বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তার বংশধরদের সেইভাবে র্জানীতিতে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে শহরে কোন আন্দোলন বর্তমানে বেগবান হচ্ছে না।
Town_Bnp_Munshiganj2
বিগত দিনে বিএনপি নেতা প্রয়াত শাহজাহান সিকদার, আব্দুল লতিফ, এডভোকেট আব্দুল মান্নান ও এডভোকেট মুজিবুর রহমান সিটির দায়িত্বে থাকার সময় আন্দোলন যেভাবে বেগবান হয়েছে তা এখন আর চোখে পড়ে না। নেতৃত্বের সংকট থেকে সিটি বিএনপি বের হতে না পাড়লে যে কোন আন্দোলন বিএনপির মাঠে মারা যেতে পাড়ে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।।

বিএনপির ধানের শীষে নতুন সংযোজন এডভোকেট সালাউদ্দিন খান স্বপন। বেশ কিছু দিন স্বপনকে বিএনপির সভা সমাবেশে দেখা যায়। কিন্তু ইদানিং তাকে আর সেইভাবে দেখা যাচ্ছে না। নানা কোন্দলের কারণে বর্তমানে কোন আন্দোলনে তাকে আর সেইভাবে দেখা যায় না। জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী এই নেতা এক সময় এরশাদের জেলা জাপার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। রাজনীতির ঝুড়ি বড় হলেও সিটির রাজনীতির হালে তিনি তেমন পানি পাচ্ছেন না। বিএনপির রাজনীতির প্রবেশে তাকে অনেকেই ইর্শার চোখে দেখেন। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় তার অবস্থান থাকলে হয়তোবা কারো কারো পদ ও পদবী চলে যাবার আশংকা রয়েছে। তাই তাকে অনেকেই দূরে ঠেলে রাখেন।


আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে মুক্তারপুর থেকে যে পরিমাণ সমর্থক মিছিল নিয়ে আসে তার সিকিভাগ মুন্সীগঞ্জের সমর্থকদের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। তাছাড়া হরতালের আগের দিন যে পরিমাণ সমর্থকদের শহরে মিছিল গরম করা হয়, তার সিকিভাগ নেতা কর্মী হরতালের দিন পিকিটিংয়ে দেখা যায় না। অনেক নেতা কর্মী হামলা মামলার ভয়ে নিজেকে এড়িয়ে চলেন।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ