খোকার হঠাৎ গরম সুর!

khokaহঠাৎ সাদেক হোসেন খোকার রুদ্ররূপ! এ যেন চিরচেনা খোকা নন, অন্য কেউ! সম্প্রতি তার কণ্ঠ থেকে এমন সব বাক্য উচ্চারিত হচ্ছে, যার সঙ্গে আসল সাদেক হোসেন খোকার মিল খুঁজে পাওয়া ভার। ‘নরম’ খোকার কণ্ঠে এখন ‘গরম’ সুর।

খোকার এই আপাত বদলে যাওয়াকে কেউ কেউ বাঁকা চোখে দেখছেন। বলছেন, সরকারের নেক নজরে থাকার দুর্নাম ঘোচানোর জন্যই তার এই নবরূপ।

দলীয় নেতাদের কয়েকজন সমকালকে বলেন, সম্প্রতি খালেদা জিয়া আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগরকে চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হওয়ায় খোকাকে তিরস্কার করেন। খালেদার রুষ্ট মনোভাব দূর করার জন্য নয়াপল্টনে এসে হঠাৎ গরম বক্তব্য দেন খোকা। তাই বক্তব্যে ঝাঁজ একটু বেশিই ছিল।
১৮ এপ্রিল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের সমাবেশে সাদেক হোসেন খোকা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মতো সব জেলা-উপজেলা ও গ্রামে আওয়ামী লীগ ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জোট নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হরতালে আওয়ামী লীগের ‘হোন্ডা বাহিনী’ মাঠে নামলে তাদের ধ্বংস করে দিতে হবে। সর্বাত্মক হামলা চালাতে হবে। এ ছাড়া সরকারের মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কড়া বক্তব্য দেন তিনি।


একদিন পরই গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশে খোকা বলেন, সরকার একদলীয় ‘ভোট চুরির’ নির্বাচন করতে চাইছে। তাদের বলব, এ পথ থেকে সরে আসুন। ভোটের বাক্স ভেঙে, ব্যালট ছিনিয়ে নির্বাচিত হবেন_ সে চেষ্টা করলে এবার পিটিয়ে সরকারের চামড়া তুলে নেওয়া হবে। কারও পিঠের চামড়া থাকবে না।

নিন্দুকরা বলছেন, দলের প্রায় সব সিনিয়র নেতাই গ্রেফতার হয়েছেন। সবাই একাধিকবার জেলও খেটেছেন। অথচ ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক হওয়ার পরও গ্রেফতার তো দূরে থাক, তার বিরুদ্ধে মামলাও হয় না। ভালোই আছেন তিনি। দলীয় নেতাদের একাংশ বরাবরই দাবি করে আসছেন, খোকার সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই তার কিছুই হয় না। ওয়ান-ইলেভেনের ভূমিকার জন্য খোকা দলে কিছুটা বিতর্কিত।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে খোকা যেভাবে সহিংসতার উস্কানি দিয়েছেন, তাতে করে সরকারের নড়েচড়ে বসাই ছিল স্বাভাবিক। তারাও নিরুত্তাপ, নিস্পৃহ। তাই অনেকেই বলছেন, ডালমে কুচ কালা হ্যায়।

সমকাল