আইন আছে প্রয়োগ নেই: ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না জাটকাবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে

আইন থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না জাটকাবাহী নৌযানের রিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী ১টি যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ১৫ মণ জাটকা ইলিশ আটক করেছে কোস্টর্গাড। তবে প্রতিবারের মত এবারও এর সঙ্গে জড়িত জাটকার মালিককে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী দল কোস্টগার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তা। এবার জাটকা আটক কালে জাটকা বহনের দায়ে লঞ্চ মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বরাবরের মত আইন প্রয়োগ না করেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ফলে চলমান ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম ২০১৩’ এর সফলতা ও অভিযান নিয়ে জনসাধারণের মনে নানা প্রশ্নের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


কোস্টগার্ড সুত্রে জানাযায়, চলতি মার্চ মাসে এই পর্যন্ত ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীতে কোস্টগার্ড ও মৎসকর্মকর্তা অভিযান করে চালিয়ে মোট ৫শ’ ১ মণ জাটকা আটক করে। এরমধ্যে ট্রলারে ২টি মাত্র অভিযান চালিয়ে ৯০ মণ জাটকা আটক করা হয়। বাকী ৪১১ মণ জাটকা আটক করা হয় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে। তবে এইসব অভিযানের সবকটাতেই জাটকার মালিককে পাওয়া যায়নি। নৌযানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কোন আইন প্রয়োগ করা হয়নি। ছেড়ে দেয়া হয় লঞ্চ ও ট্রলারকে। আটককৃত এই জাটকা পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এতিম খানায় বিতরণ করা হয়।

এইসকল অভিযান সম্পর্কে তাই স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন নদী পথে প্রচুর পরিমানে জাটকা অবৈধভাবে লঞ্চসহ বিভিন্ন যানে ঢাকায় যাচ্ছে। এর কিছু অংশ ধরা পড়ছে। আইন থাকার পরেও আইন প্রয়োগ না করার কারণে জাটকা নিধন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সরকারের জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম কোন কাজে আসছে না।

এদিকে এ ব্যাপারে দুটি আইন বা অধ্যাদেশে স্পষ্ট করে করে এমনসব অপরাধীর ক্ষেত্রে সাজা নিশ্চিত করেছেন।

একটি হচ্ছে মৎস্য সংরক্ষণ ১৯৫০ ও ১৯৮৪ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী কার্তিক মাসের মধ্যভাগ থেকে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যে (নভেম্বর-এপ্রিল) ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ইলিশ মাছ (জাটকা) ধরা, বহন বা বিক্রি করা নিষেধ। এই আইন অমান্যকারী প্রথমবার অপরাধের জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন।

অপরটি হচ্ছে অভন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ কতিপয় ধারা সমুহ ধারা ৫৮ (খ) মোতাবেক লঞ্চের ডেকের উপর মালামাল বহন নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্যকারী লঞ্চ মালিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও মাস্টারকে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

এইসব অভিযান প্রসঙ্গে কোস্টগার্ডের নারায়ণগঞ্জের পাগলা স্টেশনের সাব লে: হাসানুর রহমান জানান, জাটকা নিধন অভিযান কার্যক্রম হিসেবে তাদের এইসব অভিযান চলছে। এইসব অভিযানে আমরা জাটকা আটক করে মৎস কর্মকর্তার হাতে তুলে দেই। তারপর তারা যদি আইন প্রয়োগ না করেন আমাদের কি করার আছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিটি অভিযানেই কোস্টগার্ডের সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তা থাকছেন। বিপুল পরিমানে জাটকা আটক হচ্ছে। তবে এইসব অভিযান জাটকার সঙ্গে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আইন থাকা সত্বেও আইন প্রয়োগ করছেন না কেন প্রসঙ্গে বলেন, যে আইন আছে এই আইনে লঞ্চে ব্যক্তিদের সাজা প্রদান করা যায়না। এই জন্য জাটকা নিধন অভিযান বিফলে যাচ্ছে প্রশ্নে বলেন, আমরাতো মনে করি না বিফলে গেছে। আমরা সফল বলেই মনে করি। তবে বিষয়টি নিয়ে তাদের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ