লৌহজং ওসির হাওয়া ভবনের কানেকশন

লৌহজং থানার স্পিড বোটের নামে তেল আতআত্মসাতের ঘটনায় ওসির বিরেুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ওসিকে মুন্সীগঞ্জ সদর হেড কোয়াটারে তলবও করা হয়। লৌহজং ওসির সাথে হাওয়া ভবনের কানেকশন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ভাষণ দেয়ার সময় যখন গ্রেনেড হামলা হয় তখন বর্তমান লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমান ঢাকার গুলশান থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন।

লৌহজং উপজেলা আ’লীগের অনেক নেতার অভিযোগ, ওসি জাকিউরের সাথে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সাথে হট কানেকশন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কহিনুর শিকদার। কহিনুর শিকদার মোবাইল কাদের হত্যার অন্যতম আসামী। এছাড়া বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহার সাথে তার রয়েছে হট কানেকশন। রাতে মিজান সিনহা লৌহজংয়ের কলমায় রাত্রি যাপন করলে বেশি রাতে তার সাথে দেখা করেন এই ওসি।

এই ওসি লৌহজং থানায় আসার পর লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ মোড়লকে ১২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তাকে আদালতে না পাঠিয়ে ওসি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পরে বিদ্যুৎ মোড়লকে ছেড়ে দেন। এই ম্যাকানিজমের সাথে জড়িত ছিলেন ওসির ডান হাত হিসেবে পরিচিত এস আই শাহজাহান।

এই উপজেলায় মাদক ব্যবসার ব্যাপকতা রয়েছে। নানা অজুহাতে এই ব্যবসার সাথে জড়িতদের নানা সময় আটক করা হয়। তবে ১০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আটক ব্যক্তিদেরকে ওসি ছেড়ে দেন।

লৌহজং উপজেলার বড় নওপাড়া এলাকার পদ্মা সিনেমা হলের কাছে রিয়া কম্পিউটার সেন্টার। এই সেন্টারে দারোগা রফিক একটি মোবাইল ঠিক করতে আসে। এটি ঠিক করা বাবদ এর মালিক আ. রশিদ তার কাছে ১০০ টাকা চায়। এতে রফিক ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে রফিক রশিদের মোবাইল নিয়ে নেয়। এই মোবাইলে একটি ন্যুড ছবি পাওয়া যায়। এই অভিযোগে রশিদকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রশিদকে ছেড়ে দেয়া হয়।

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে লৌহজংয়ের মাওয়া ফেরীঘাটে রাত সোয়া ১২টার দিকে ভারতীয় শাড়ী বোঝাই একটি ট্রাক আটক করা হয়। এই ট্রাকে ১ কোটি টাকার মালামাল ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওসি ও শাহজাহান এই ট্রাকটি রাত ৩টার দিকে ছেড়ে দেয়।

২০১৩ সালের ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি মাওয়াতে অবৈধ মালামালসহ একটি মাইক্রোবাস আটক করা হয়। পরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওসি ও শাহজাহান সেই মাইক্রোবাসটিও ছেড়ে দেন। ওসি ও শাহজাহানের তান্ডবে বর্তমানে লৌহজংবাসী অতিষ্ঠ।

মাওয়া ফেরীঘাট দিয়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক গাড়ী পারাপার হয়। প্রতিটি গাড়ী থেকে এই ওসির জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়।

অতি সম্প্রতি লৌহজংয়ের কলমা এলাকায় বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এই চুরি ঘটনায় বিএনপির এক নেতাকে আটক করা হয়। পরে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ওসি সেই নেতাকে চুরির মামলা বাদ দিয়ে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখান।


এ ওসির অত্যাচারে অতিষ্ঠ তার কলিগরা। ওসি নানাভাবে কলিগদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করায় অনেকেই এই থানা থেকে অন্য থানায় চলে যাচ্ছে তার স্টাফরা। ইতোমধ্যে চলে যাওয়া স্টাফরা হচ্ছেন, এস আই খালিদ। লৌহজং থেকে শ্রীনগর থানায় চলে গেছেন। এস আই নজরুল (এসবি) লৌহজং থেকে শরিয়তপুর চলে গেছেন। এস আই নজরুল লৌহজং থেকে সিরাজদিখান চলে গেছেন। সহকারী দারাগো আলমগীর লৌহজং থেকে গাজীপুর চলে গেছেন। কনস্টোবল মাহবুব লৌহজং থেকে টঙ্গীবাড়ী চলে গেছেন। স্পিড বোটের ড্রাইভার লৌহজং থেকে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইনে চলে আসেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ