খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংকট উর্ত্তীণ হবে: মোঃ আব্দুল হাই

Abdul_Hai_Interviewমোঃ আব্দুল হাই। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কান্ডারী। দীর্ঘ দিন যাবত বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান-এর মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিষ্ঠার সাথে। এ যাবৎকালের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় এ রাজনীতিক মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া সংসদীয় আসন হতে বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জেলার জনগণের প্রিয় মুখ মোঃ আব্দুল হাই। ছাত্রাবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করেছেন। পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে হয়েছেন এমপি এবং উপ মন্ত্রী। জিয়াউর রহমানের রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই বিএনপি’র রাজনীতি শুরু করেন।

গত ৯ এপ্রিল মাকহাটি পঞ্চসার হিমাগারে বিক্রমপুর সংবাদের সাথে জেলা বিএনপির সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিক মোঃ আব্দুল হাই-এর সাথে খোলামেলা আলাপচারিতা হয়। এর বিশেষ অংশ মুন্সীগঞ্জ নিউজিএর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো –

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : রাজনীতিতে হাতেখড়ি কি ভাবে হলো?

আঃ হাই : ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না। তবে আনোয়ার নামের এক ছাত্র নেতা তিনি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। তার সাথে ছাত্র ইউনিয়নের সমর্থক ছিলাম। ছাত্র রাজনীতিতে কোনো পদে ছিলাম না। এরপরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক জাগ দল গঠিত হলে মুন্সীগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) দায়িত্ব পান মরহুম সিদ্দিকুর রহমান। তার সাথে জাগ দল করতে থাকি। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া সংসদীয় আসন হতে প্রথম এমপি নির্বাচিত হই। বলতে গেলে সিদ্দিকুর রহমানের হাত ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই।
Abdul_Hai_Interview
মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আপনি ১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে প্রথম এমপি হলেন। মুন্সীগঞ্জে অনেক বড় বড় নেতারা সে সময়ে বিএনপির এমপি প্রার্থীতা চেয়েছিলেন। সকলকে টকপকিয়ে আপনি বিএনপির প্রার্থী হন। এটা কিভাবে সম্ভব হলো?

আঃ হাই : আগেই বলেছি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সিদ্দিুকর রহমান মুন্সীগঞ্জের রাজনীতির গতিবিধির লক্ষ রাখতেন। আর সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন মুন্সীগঞ্জে বিএনপির সংগঠনকে সাজানোর দায়িত্বে। তিনি মনে করেছেন আমি এ অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুন্সীগঞ্জে এলে তার সাথে আন্তরিকতা বাড়ে। এর ফলশ্রুতিতেই আমি মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াই এবং নির্বাচিত হই।


মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আপনি যতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ততবার অনেকে মনোনয়নই পাননি। তারপরেও কেন্দ্রে আপনার অবস্থান দূর্বল মনে হয়। কারণটা বলবেন কি?

আঃ হাই : আসলে অবস্থান দূর্বল নয়। একসময় কেন্দ্রে বেশি বেশি সময় দিতাম। সময় দিলে অবস্থান এখনো ভালো হবে। পারিবারিক ঝামেলার কারণে এখন কেন্দ্রের চেয়ে জেলাতেই বেশি সময় দেই। এতে স্থানীয় ভোটারদের আস্থা ও সখ্যতা বাড়ে। কর্মীরা দেখতে পায় তাদের নেতা সকল মিটিং মিছিলে ও সভা সেমিনারে তাদের সাথে আছে। এতে কর্মীদের মনোবল বাড়ে। দলের গতি সঞ্চার হয়। কেন্দ্রে অবশ্যই আমার অবস্থান ভালো। বর্তমানে আমি কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার ও সমবায় সম্পাদক। সম্প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মিটিং হয়েছে। তিনি মুন্সীগঞ্জের ব্যাপারে জানেন। তিনি আমাদের কিছু কথা বলেছেন। আর দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবেই। অবশ্যই কেন্দ্রের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : বিএনপি এখন বিরোধী দল। সে ক্ষেত্রে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মুন্সীগঞ্জ বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন?

আঃ হাই : আসলে নেতৃত্ব সংকট নয়। মুন্সীগঞ্জ ঢাকার নিকটের একটি জেলা। এখানকার অধিকাংশ নেতাই কেন্দ্রের সাথে জড়িত। সেখানেও তাদের সময় দিতে হয়। তারা যে সব প্রোগ্রামে আসেন না এটা ঠিক নয়। মাঝেমধ্যেই আসেন। আমিও সব প্রোগ্রামে থাকতে পারি না। নেতারা থাকলে কর্মীদের উৎসাহ বাড়ে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আগামী সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া সংসদীয় এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সমর্থকরা ধুম্রজালে রয়েছে? অবশেষে কি আপনি পাচ্ছেন মনোনয়ন?

আঃ হাই : ধুম্রজাল কথাটি ঠিক নয়। যে কেউ হয়তো চাইতে পারে দলের মনোনয়ন। সিদ্ধান্ত নিবে দল। আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দল সেটাই বিচার করবে। মুন্সীগঞ্জে এর আগে ৪টি সংসদীয় আসন ছিল। এখন ৩টি। ৩টি হলেও আমার বিশ্বাস কেন্দ্র আমাকেই নমিনেশন দেবেন। আমি পাব এটা আমার বিশ্বাস।


মুন্সীগঞ্জ নিউজ : বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে সেক্ষেত্রে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি তুলনামূলক ভালো আছে। এটা মূল্যায়ন করুন?

আঃ হাই : আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে, বিএনপি যাতে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। অংশগ্রহণ করলেও ফল যাতে ভালো না হয় তারই ষড়যন্ত্র করছে বর্তমান সরকার। তাই তারা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে এ সংকট উর্ত্তীণ হব। এটা সাময়িক।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আমরা মুন্সীগঞ্জে নামে দেখি ১৮ দল। কিন্তু আন্দোলন মিছিল মিটিংয়ে দেখি বিএনপি একা। এ রাজনৈতিক অবস্থার ব্যাখ্যা করুন?

আঃ হাই : মুন্সীগঞ্জে ১৮ দলের মধ্যে সক্রিয়ভাবে ৩/৪টি রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে জাতীয় পার্টির (নাজিউর রহমান মঞ্জুর) গুটি কয়েক নেতা, ইসলামী আন্দোলনের কয়েক জন নেতা ছাড়া অন্যান্য সংগঠনগুলো সক্রিয় নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতও একটিভ নয়। তারপরেও সময় সুযোগ মত তারা জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : বাংলাদেশ পারিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে আবদ্ধ। আপনার অবর্তমানে আপনার পরিবার থেকে কেউ নেতৃত্বের হাল ধরতে পারবে কি? এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

আঃ হাই : বর্তমানে সে রকম কিছু মনে করি না। তবে যোগ্যতা থাকলে জনগণ গ্রহণ করলে পারিবারিকভাবে যে কেউ আসতে পারে। এটা খারাপ কিছু না।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : ইসলামপুর বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আমরা সেখানে দেখতে পাচ্ছি কোন্দাল-উপকোন্দাল উভয়ই বিরাজমান। আগামী সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পরবে কিনা?

আঃ হাই : ইসলামপুর বিএনপির দূর্গ। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামপুর বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ইসলামপুর বৃহত্তর এলাকা। এখানে বিএনপির অনেক বড় বড় নেতা আছেন। সেখানে স্থানীয় কোন্দাল-উপকোন্দল থাকতেই পারে এবং আছেও। পারিবারিক, সামাজিক কোন্দল থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। একটা কথা আছে নির্বাচনের শেষ রাতে সব এক হয়ে যাবে। তারা বিএনপিকেই ভোট দেবে।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আপনার প্রচুর জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে এ আসনে আপনাকে বিএনপি প্রার্থী করেনি। এর কারণ কি বলে মনে করছেন?

আঃ হাই : এর আগে মুন্সীগঞ্জে ৪টি সংসদীয় আসন ছিল। একটি আসন কমিয়ে ফেলায় প্রার্থীতা বিচার বিশ্লেষণে কেন্দ্র সময় কম পেয়েছে। লোকাল জনসমর্থন যাচাই বাছাই না করে কেন্দ্র বড় বড় নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছে। আর হঠাৎ করেই নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি প্রস্তুত ছিল না। তাই আমাকে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ায় নমিনেশন না দিয়ে ঢাকার জুরাইনে প্রার্থী করে। আমি দলীয় সীদ্ধান্ত মেনে জুরাইনে নির্বাচনে অংশ নেই। এবার আশা করছি এ আসনে আমি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়ন পাব।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শিকদারকে বিগত চার বছরে কোনো আন্দোলন ও সভায় দেখা যায়নি। এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

আঃ হাই : যে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন নতুন করে করার আগে লোকাল জনমত নেওয়া প্রয়োজন। মুন্সীগঞ্জ জেলা মহিলা দলের ব্যাপারে জেলা সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রকে বলেছিলাম মুন্সীগঞ্জের জনমত নিয়ে মহিলা দল গঠন করুন। কেন্দ্রীয় মহিলা দল তাকে (রহিমা শিকদার) সভানেত্রী বানিয়েছে। লোকাললি তাকে দেখা যায় না। কেন্দ্র বানিয়েছে-লোকালে এসে তার কি দরকার! আমার কোনো অভিযোগ নেই।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ : আপনি এতোক্ষণ মুন্সীগঞ্জ নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আঃ হাই : আপনাদেরও ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : মোহাম্মদ সেলিম ও গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল।