‘অতীশ দীপঙ্কর এ বিহারে পড়েছেন’

mustafizবজ্রযোগিনীর বৌদ্ধবিহার কীভাবে আবিষ্কৃত হলো?
উয়ারী-বটেশ্বরে আমাদের গবেষণা ও খননকার্য দেখে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল আলম লেনিন আমাদের বিক্রমপুর অঞ্চলে খননকাজের আমন্ত্রণ জানান। তাঁর আমন্ত্রণে ২০১০ সালে আমরা বিক্রমপুরের তিনটি গ্রামের নয়টি স্থানে খনন শুরু করি এবং প্রতিটি স্থানেই প্রাচীন মানববসতির চিহ্ন পাই। এর মধ্যে ৯ নম্বর স্থান, যা বর্তমানে রঘুরামপুর নামে পরিচিত; ২০১২ সালে সেখানে আমরা দুই মিটার প্রশস্ত দেয়াল আবিষ্কার করি। পেয়ে যাই দুটি কর্নার। আমাদের খনন এখনো চলমান। ইতিহাসের বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে দেখেছি যে নব আবিষ্কৃত এই বিহারটিই প্রাচীন বিক্রমপুরী বিহার। বৌদ্ধপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

অতীশ দীপঙ্করের সঙ্গে বিহারটির যোগসূত্র কোথায়?
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান বজ্রযোগিনী। বর্তমান রঘুরামপুরের যেখানে বিহারটি আবিষ্কৃত হয়েছে, একসময় সেটি ছিল বজ্রযোগিনীরই অংশ। জানা যায়, ১৯ বছর পর্যন্ত অতীশ দীপঙ্কর বজ্রযোগিনীতে পড়ালেখা করেছেন। তবে কোন স্থানে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, এত দিন সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা ছিল না। এখন বিহারটি আবিষ্কারের পর এর সঙ্গে অতীশের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের অনুমান, অতীশ দীপঙ্কর এ বিহারেই পড়েছেন।

সুফি মোস্তাফিজুর রহমান
গবেষণা পরিচালক, বিক্রমপুর অঞ্চলে খনন ও গবেষণা প্রকল্প

প্রথম আলো