‘‘ভবিষ্যৎ হত্যার অপর নাম হরতাল’’

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ভবিষ্যৎ হত্যার অপর নাম হরতাল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করেই একের পর এক হরতাল দিচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু এলাকায় মেঘনা ও গোমতী সেতুর মেরামত কাজ শেষে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু দু’টি খুলে দেওয়ার সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশ ও দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান যোগযোগমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দেশের পরবর্তী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হবে। শুধু আগামী নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করলে তা স্বার্থপরের মতো কাজ হয়ে যায়’’।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত। খেটে খাওয়া মানুষদের বিপদে ফেলে, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুtশ্চিন্তায় ফেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি (হরতাল) দেওয়া উচিত নয়’’।

‘‘দেশের সড়ক পথ উন্নয়নের জন্য বর্তমান সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সেনাবাহিনী সুন্দরভাবে এ কাজ অব্যাহত রেখেছে’’।


‘‘ঢাকায় এখন ফ্লাইওভার চালু হয়েছে। ঢাকাকে দেখলে এখন ব্যাংকক মনে হয়। আর সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বিকেলে ফ্লাইওভার দেখতে ভিড় জমাচ্ছে। এ কাজগুলো সেনাবাহিনী করেছে’’।

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘‘বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে ১৩টি প্রকল্পের কাজ করছে সেনাবাহিনী। এছাড়া জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ এলাকার আরও দু’টি প্রকল্পের কাজ করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে’’।

দ্বিতীয় কাচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণের জন্য জ্যাইকার সঙ্গে হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে এ কাজ শুরু করা হবে বলে যোগাযোগমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘মন্ত্রী যদি নিজেকে দেশের কর্মী না ভাবে, তাহলে দেশের উন্নতি হবে না। মন্ত্রীকে অহঙ্কার ভুলে নিজেকে দেশের কর্মী ভাবতে হবে। কেননা, ভোট দিয়ে মন্ত্রী বানিয়েছে সাধারণ মানুষ। এ সাধারণ মানুষ যদি অসাধারণ বলে, তাহলেই সে অসাধারণ’’।

এসময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, মেজর জেনারেল আবু সাঈদ, সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এম সিদ্দিক, সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত, সুবেদ আলী ভূঁইয়া, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, নির্মাণের পর থেকে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে মেঘনা ও গোমতী সেতু দু’টির এক্সপানশন জয়েন্ট ও হিঞ্জ বিয়ারিংগুলো মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে গাড়ি চলাচলের সময় মাত্রাতিরিক্ত কম্পন অনুভূত হতো।

এছাড়া মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত স্রোত এবং ভারি জাহাজ চলাচলের কারণে মেঘনা সেতুর ফাউন্ডেশনের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়।

ফলে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কয়েক দফায় মেঘনা সেতুতে ৩৬টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ১৩টি এক্সপানশন জয়েন্ট এবং গোমতী সেতুতে ৬০টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ১৭টি এক্সপানশন জয়েন্টের স্বল্পকালীন ও স্থায়ী প্রতিস্থাপন এবং মেঘনা নদীর তলদেশে স্কাউর প্রটেকশনের কাজ করা হয়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply