মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বুধবার

মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর সংস্কার কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও বুধবার সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সকাল ১০টায় এর উদ্বোধন করা হবে। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

মেঘনা ও গোমতী সেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু। যা বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সরাসরি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এ রুটটিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ সেতু দুটির নির্মাণকাজ যথাক্রমে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে শেষ হয়। ডিজাইন অনুসারে সেতু দুটির ওপর দিয়ে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ১১ হাজার যানবাহন চলাচলের কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে দৈনিক ২০ হাজারের অধিক যানবাহন চলাচল করে।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেতু দুটির এক্সপানশন জয়েন্ট ও হিঞ্জ বিয়ারিং গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গাড়ি চলাচলের সময় মাত্রাতিরিক্ত কম্পন অনুভূত হয়।

এছাড়া মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত স্রোত এবং ভারী জাহাজ চলাচলের কারণে মেঘনা সেতুর ফাউন্ডেশনের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যা সেতুটির জন্য খুবই বিপদজনক। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু দুটিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করে আসছিল।


এ অবস্থায় সেতু দুটির পুনর্বাসন কাজ জরুরি হয়ে পড়ায় গত বছরের ৭ মে সড়ক বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ কাজটি দ্রুত শেষ করার লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অনুরোধ জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় এসডব্লিউও-পশ্চিম গত বছরের ১০ জুন ২০১২ তারিখে সেতু দুটির পুনর্বাসন কাজ শুরু করে।

এ পুনর্বাসন কাজ দুটি অংশে বিভক্ত (১) সুপারস্ট্রাকচার অংশে মেঘনা সেতুতে ৩৬টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ১৩টি এক্সপানশন জয়েন্ট গোমতী সেতুতে ৬০টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ১৭টি এক্সপানশন জয়েন্টের স্বল্পকালীন ও স্থায়ী প্রতিস্থাপন এবং (২) মেঘনা নদীর তলদেশে স্কাউর প্রটেকশনের কাজ। ফলে সেতু দুটি আগামী ১০ বছর ঝুঁকিমুক্ত থাকবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম