লৌহজং ওসির খুঁটির জোর কোথায়

জমিজমা সংক্রান্ত জের হিসেবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সস্পাদক পক্ষে আক্রমণের শিকার হয়েছেন স্থানীয় যুবলীগের ভাই শামীম। বিএনপি নেতা কহিনুরের পক্ষে ঘটনার দিনেই লৌহজংয়ে মামলা হয়। আর লৌহজং থানার অনেক তালবাহানার পর শামীমের পক্ষের মামলাটি দায়ের হয় এক সপ্তাহ পরে। এই মামলার ঘটনায় এখন আর বাড়ি থাকতে পারছেন শামীম। তবে কহিনুর বাড়িতে আছেন ঠিকই। কহিনুরের সাথে বিশেষ সখ্যতা রয়েছে লৌহজং থানার ওসির। কারণ ওসিও বিএনপির। কহিনুরও বিএনপি।


জানা যায়, ১৯৬৪ সালে শেখ আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ইলিয়াস ভুইয়া সাব কবলা দলিলে ৫ একর ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। আর এই জমির মসদগাঁও মৌজা হচ্ছে ২৯১ ও মালির অংক মৌজা হচ্ছে ৩০৬। ১৯৯৯ সালে ইলিয়াস ভুইয়ার কাছ থেকে কহিনুর সিকদার ৩০০ টাকায় মাসিক ভাড়ায় ২টি ঘর উঠায়। পরে পর্যায় ক্রমে সেখানে কহিনুর মোট ১৮টি ঘর তোলে। তারপর সে ২০০৭ সালের আগস্ট মাস থেকে ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১০ সালে কহিনুর সিকদার ঘর উঠানো ভাড়া থাকা জায়গা গুলো সে নিজের জমি বলে দাবি করে। পরে বিষয়টি মামলায় রূপ নেয়। আর তার ধারাবাহিকতায় মার্চের ১০ তারিখে শামীমের ওপরে হামলা করে কহিনুরের লোকজন। পরে শামীমকে লৌহজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শামীমের বিরুদ্ধে ঘটনার দিনই লৌহজং থানায় মামলা হয়। এই মামলায় লৌহজংয়ের তেউটিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সভাপতি তামীম ভুইয়াকে আসামী করা হয়েছে। তামীম শামীমের ভাই। শামীমের পক্ষে মামলা দিতে গেলে তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিলেও ঘটনার দিন কোন মামলা হয়নি। পরে এক সেনা কর্মকর্তার অনুরোধে ১৭ মার্চ শামীমের পক্ষে মামলা নেয়া হয়।

গত চারদলীয় বিএনপি সরকারের সময় জাকিউর রহমান বিএনপির কোঠায় পুলিশের চাকরীতে প্রবেশ করেন। সেই সময় তার ভাই টিটো স্বরাস্ট প্রতিমন্ত্রী বাবরের পিএস ছিলেন। জাকিউর রহমানের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলায়। বিএনপির এই ওসি ইতোমধ্যে লৌহজং থানায় কর্মরত গোপালগঞ্জের পুলিশের তিনজনকে বিভিন্ন কায়দায় বিপদে ফেলে তাদেরকে এখান থেকে সড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং তার রাজনীতির সাথে মানান সই এস আই শাহজাহানকে ২ মাস আগে লৌহজং থেকে বদলী করা হলেও সে এই থানায় রয়ে গেছেন। এই ওসির একটি বিলাস বহুল প্রাইভেট কার রয়েছে। এই কারের নাম্বার হচ্ছে ঢাকা মেট্রো চ ৯২৯২। এই কারের জ্বালানী খরচ থানা থেকে উঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। থানার স্পিড বোট অনেক দিন ধরে নস্ট। অথচ এই স্পিড বোর্টের নামে সরকারি জ্বালানী তেল তোলা হয়। ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে ও ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে শ্রীনগরের একটি পেট্রল পাম্প থেকে ২০০ লিটার পেট্রল উত্তোলন দেখানো হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ড্রাইভারের ওপরে দোষ চাপানো হয়। এই অপরাধে ড্রাইভারকে সেখান থেকে বদলি করে দেয়া হয়। কিন্তু ওসির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি রহস্যজনক কারণে। সকল অভিযোগের বিষয়ে ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে অথরিটি জানে। তাই তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ