হেফাজত ইস্যুতে ভেস্তে যাচ্ছে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য

হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর সমর্থন দেয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুকে জাতীয় ঐক্যের একমাত্র এজেন্ডা ঘোষণা করায় ভেস্তে যেতে বসেছে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া। জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া নিয়ে মাস খানেক আগেও দুই দলের নেতাদের মধ্যে যে তৎপরতা ছিল, এখন আর তা নেই। এমনকি এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে কোনো যোগাযোগ বা আলোচনাও বন্ধ।

মূলত বিরোধের সূত্রপাত গণজাগরণ মঞ্চে ড. কামাল হোসেনের সমর্থন জানানোর মধ্য দিয়ে। এরপর হেফাজতে ইসলামের প্রতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমর্থনের মধ্য দিয়ে তা আরও প্রকট হয়।

জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে গিয়ে গণজাগরণ মঞ্চে তার সমর্থন জানান ড. কামাল হোসেন। একই দিন বদরুদ্দোজা চৌধুরী বইমেলায় তার মেয়ের বইয়ের প্রকাশনা উৎসব শেষে গণজাগরণ মঞ্চের পাশ দিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো রকম মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন। অন্যদিকে, ২ এপ্রিল বি. চৌধুরী থাইল্যান্ড থেকে ফিরে ঢাকায় নেমেই হেফাজতে ইসলামের ডাকা লংমার্চের প্রতি সমর্থন জানান। কিন্তু ড. কামাল হোসেন তা থেকে বিরত থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটা করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার পর গণজাগরণ মঞ্চকে এককভাবে সমর্থন জানানো ও কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে ড. কামাল হোসেনের প্রতি কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন বি. চৌধুরী । এমনকি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ গঠনের পর এ দুই নেতা বা তাদের দলের নেতাদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈঠকও হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২ এপ্রিল বি. চৌধুরী হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে ইঙ্গিত দিলেন যে তিনি আর ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে কোনো আন্দোলন করবেন না।

ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন গত বছরের ২১ অক্টোবর দূর্নীতি, সন্ত্রাস ও গুমের বিরুদ্ধে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রবীণ সাংবাদিক ও দুই জোটের বাইরে থাকা দলের নেতাদের নিয়ে বনানীর এক অভিজাত হোটেলে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। জাতীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।


জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার পর বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও গণফোরামের নেতারা দেশের সাতটি বিভাগে সমাবেশও করেন। এসব সমাবেশ শেষে গত মার্চ মাসে ঢাকায় কনভেনশন করে তৃতীয় জোটের আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন ।

সূত্র জানায়, ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ আন্দোলন সবকিছু এলোমেলো করে দেয় এই দুই দলের নেতাদের। শাহবাগকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়ে জাতীয় ঐক্যের দুই দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও গণফোরাম। এরপর দুই দলের নেতাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক তো দূরের কথা, অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তাও হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমনকি এই সময়ে জাতীয় ঐক্য নিয়ে দুই বড় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গেও কোনো আলোচনা করেননি নেতারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই ইস্যুতেই এখন জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আগামী নির্বাচন যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে না পারি, তাহলে সন্ত্রাস ও দূর্নীতি দমনের অন্য দাবিগুলো পূরণ হবে না।”

জাতীয় ঐক্যের ডাকের ব্যাপারে বি. চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আপাতত স্থগিত আছে।”

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন জানানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা কেন হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন দেব।”

বি. চৌধুরীর হেফাজতে ইসলামকে সমর্থনের বিষয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, “এটা তার ব্যাপার। আমরা তাকে সমর্থনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম. তিনি বলেছেন, মিডিয়ায় যেভাবে এসেছে, হেফাজতে ইসলামকে তারা সেভাবে সমর্থন দেননি।”

বিকল্পধারার সিনিয়র প্রেসিডিযাম সদস্য ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন দিয়ে বি চৌধুরী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য হবে কি না জানতে চাইলে মোস্তফা মহসীন বলেন, “ড. কামাল সাহেব সিনিয়র নাগরিক হিসেবে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। আমি যদি বেরিয়েও যাই, তার পরও ঐক্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। ঐক্য তার আপন গতিতে চলবে। ”

মোস্তফা মহসীন আরো বলেন, “২০ এপ্রিল ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে আমরা সমাবেশ করব। এটি নিয়ে বি. চৌধুরীর সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। দেখা যাক কী হয়।”

নতুন বার্তা