ইজারা ছাড়া সরকারি দলীয় লোকদের চলছে মাটি কাটার মহোৎসব

শহীদুল ইসলাম: মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। সরকারী ইজারা বা কোন প্রকার রাজস্ব না দিয়ে লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের প্রধান খালে একজন ইউপি সদস্য শংকর মেম্বারের মদদে ড্রেজার, কোদাল এমনকি মেশিনের সাহায্যে এ মাটি কেটে লাখ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে আয় করে নিচ্ছে ওই ইউপি মেম্বার ও তার লোকজন।

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সাথে আতাত করে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে ওই মেম্বার তার নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন আধাপাকা দ্বিতল কুটির। অথচ দিনের আলোতে এসব অবৈধ মাটি কাটা হলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

সরজমিনে দেখা যায় লৌহজং-শ্রীনগর খালের খড়িয়া বেদে পল্লি হতে গোয়ালী মান্দ্রা হয়ে শ্রীনগর ব্রীজ পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ৫টির মত দেশীয় ড্রেজার, কোথায় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে আবার কোথাওবা মেশিনের সাহায্যে অতিদ্রুত মাটি তুলে তা ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাশ্ববর্তী উপজেলাসহ দূর-দূরান্তে। উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রায় এ মাটি কাটা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। আর এ সিন্ডিকেট চক্রটির তিন সদস্য স্থানীয় মজনু শেখের ছেলে সুমন, মোসলেম খানের ছেলে মিন্টু ও শাহ আলম খানের ছেলে ডিএম। চক্রটি বিভিন্ন জায়গায় মাটির ঠিকা নিয়ে তা সরকারী খাল হতে ড্রেজার, কোদাল ও মেশিনের সাহায্যে কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সরকারী খাল থেকে রাজস্ব দিয়ে মাটি কাটার নিয়ম থাকলেও এ চক্রটি তা মানছেনা। তার কারণ স্থানীয় ১ নং ইউপি ওয়ার্ড মেম্বার শংকর ঘোষের ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চক্রটি তাদের মাটিকাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে এ সিন্ডেকেট চক্রটি খাল থেকে ২৪ লক্ষ টাকার একটি ও ১৮ লক্ষ টাকার আরো একটি মাটির কাজ হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ মাটি কেটে শ্রীনগর উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালক করছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি রাজস্ব আদায়ে তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছেনা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার ফলে আশেপাশের বাড়িঘর ও জমিজমা ঝুকিপূর্ণ হলেও প্রশাসনের সেদিকে নজর দিতে দেখা যায়নি। বরং এমনও দেখা গেছে ২-১টি ড্রেজার মাঝে মধ্যে আটক করলেও তা আর থানা পর্যন্ত গড়ায়নি। স্পটেই টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তা মিমাংশা হয়ে গেছে। যারা টাকা দিয়ে প্রশাসনের লোকজনকে খুশি করতে পেরেছে তাদের ড্রেজর চলেছে। আর যারা টাকা দেয়নি, তাদের ড্রেজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গোয়ালী মান্দ্রার ওই সিন্ডিকেট চক্রটি শুধু মাটি কাটায় নিয়ন্ত্রণ করছে না,তাদের বিরুদ্ধে গোয়ালী মান্দ্রার বেদে পল্লীর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনেরও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে তারা মাটি কাটার পাশাপাশি মাদক ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছ। আর এদের মদদ দিচ্ছে ১ নং ওয়ার্ডের ওই শংকর মেম্বার। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


এদিকে শংকর মেম্বাররের বিরুদ্ধে শুধু খাল থেকে অবৈধ মাটি কাটারই অভিযোগ নয়, সরকারী সম্পত্তি দখল, বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের একটি গোডাউনে ভেঙে পড়া বাজারের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ৬৫ বান টিন থাকলেও তার এখন আর কোন হদিস নেই। যা ওই মেম্বার রাতের অন্ধকারে সরিয়ে ফেলেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। তাছাড়া বাজারের ওই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পূর্ব দিকের শেটের রাস্তার পাশের তিনটি কক্ষ শংকর মেম্বার ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা ১/১১-এর সময় সেনা বাহিনী অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে তালা বদ্ধ করে রেখেছিল।

তাছাড়া উচ্ছেদকৃত আরো একটি কক্ষ স্থানীয় বাজার দোকানদার সত্য নারায়নের কাছে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় দিয়ে নিজে অর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আবার নিজের স্ত্রী ও ভাইয়ে নামে ভূমিহীন সার্টিফিকেট নিয়ে এখন বাড়ির পাশের একটি বিশাল জায়গা দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের নামে বিষয় সম্পত্তি থাকলেও মেম্বার হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে ভূয়া ভূমিহীন সার্টিফিকেট দিয়েছে। এছাড়া ওই মেম্বারের রয়েছে অবৈধ ও ভেজাল ঘি-এর ব্যবসা। বিএসটিআইএর কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে বাড়িতে কারখানা বানিয়ে বিভিন্ন ক্যামিকেলের সাহায্যে ভেজাল ঘি তৈরী করে তা জনগণের কাছে বিক্রি করছে। গোয়ালী মান্দ্রা সিন্ডিকেট চক্রের হোতা এই শংকর মেম্বার তার বিরুদ্ধে আনিত এ সকল অভিযোগ আস্বীকার করেছে।

লৌহজং উপজেলার নব নিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম জানান, অবৈধ মাটি কাটার ব্যাপারে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোড়াই২৪