বৌদ্ধ বিহার দৃষ্টি নন্দন পর্যটন কেন্দ্রের অপার সম্ভাবনা

bbbbশেখ মো.রতন: দেশের রাজধানী ঢাকার বাইরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা সদ্য আবিস্কৃত মুন্সীগঞ্জের বৌদ্ধ বিহারটি দৃষ্টি-নন্দন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ইতিহাস ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এ বৌদ্ধ বিহার। এতে বিক্রমপুরের ইতিহাসের অফুরন্ত ভান্ডারের সঙ্গে পরিচয় হতে পারবেন ভ্রমন প্রিয় পর্যটকরা। প্রতœ-খননের মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জে সদ্য আবিস্কৃত এ বৌদ্ধ বিহারটি ১২’শ থেকে ১৩’শ বছরের আগের। এটি ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারও হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। নিশ্চিত না হলেও এ বৌদ্ধ বিহারের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের জ্ঞান পুরুষ পন্ডিত অতীশ দীপংকরের নিবির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বৌদ্ধ বিহারে ইতিমধ্যে ৪ টি ভিু- করে দেখা পাওয়া গেছে।

বৌদ্ধ বিহার ও ঢাকার মধ্যে দুরত্ব র্সব-সাকুল্যে মাত্র ২৭-২৮ কিলোমিটার। এই সামান্য দুরত্বের পথ পাড়ি দিলেই মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনীর রঘুরামপুরের বৌদ্ধ বিহারে আসা যাবে। এখানে আসতে খুব একটা বেশী সময় লাগবে না। রাজধানী থেকে রওনা দিলে বাসে চড়ে ঘন্টা দেড়েক সময়ের মধ্যেই বৌদ্ধ বিহারে পৌছানো সম্ভব। তাই ছুটির দিন কিংবা যে কোন দিনেই স্ব-পরিবারে বৌদ্ধ বিহারে ঘুরে যেতে পারেন যে কেউই। প্রকৃতির গাছপালা ঘেরা সবুজ-শ্যামল এক বাংলা প্রতিচিত্র এ বৌদ্ধ বিহারের আশপাশের পরিবেশ। কাছেই রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের দ্বিতীয় বুদ্ধ জ্ঞান-তাপস অতীশ দ্বীপংকরের বাস্তুভিটা। বৌদ্ধ বিহারটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে বৌদ্ধ বিহার দেখার পাশাপাশি অতীশ দ্বীপংকরের বাড়িও দেখা যাবে খুব অল্প সময় ও স্বল্প খরচে। এছাড়া বৌদ্ধ বিহার থেকে মাত্র ৫০-৬০ টাকার রিকশা ভাড়া দিয়ে জেলা শহরের কোর্টগাঁও এলাকাস্থ মোঘল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক নির্দশন কালের সাী ইদ্রাকপুর কেল্লাও ঘুরে যেতে পারবে পর্যটকরা। কাজেই বৌদ্ধ বিহার, অতীশ দ্বীপংকরে বাস্তুভিটা ও ইদ্রাকপুর কেল্লা-এ ৩ টি ঐতিহাসিক প্রতœ-সম্পদ তথা প্রতœস্থান ঘুরে-ফিরে দেখা যাবে একই সঙ্গে।

এদিকে, ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের বৌদ্ধ বিহারের আসার পথ তথা রাস্তা ঘাট অপ্রতুল হলেও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সেই পথ-ঘাট উন্নত করার দরকার হবে। ইতিহাস সংরনের পাশাপাশি হাজার বছর আগের ইতিহাসে ফিরে যাওয়া বা ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয়, ইতিহাসের কাছাকাছি থাকা ও কিছুটা সময় কাটানো-সব কিছু ছাপিয়ে ইতিহাস ভিত্তিক এক ব্যতিক্রমী পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে এ বৌদ্ধ বিহার। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জের অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিনের উদ্যোগে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্তিক খনন ও গবেষনা প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে প্রতœতত্ব ও পুরাকীর্তির সন্ধানে খনন কাজ হাতে নেওয়া হয়। বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্তিক খনন ও গবেষনা প্রকল্পের পরিচালক হচ্ছেন নূহ-উল-আলম লেনিন। প্রতœ খনন কাজের গবেষনা পরিচালক হচ্ছেন- জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড, সুভি মোস্তাফিজুর রহমান। তারই নেতৃত্বে জাবির একদল শিক-শিার্থী খনন কাজের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ বিহার আবিস্কারের কৃতিত্ব অর্জন করেন। গত ১৩ মার্চ অনাড়ম্বর ভাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ বৌদ্ধ বিহার আবিস্কৃত হওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বৌদ্ধ বিহারে পর্যটকদের আগমনের েেত্র এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন- সরকার পর্যায়ক্রমে এ বৌদ্ধ বিহারটি সংরন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠমো গঠন করবে। নদী ভাঙ্গন কবলিত এ বিক্রমপুরে অনেক প্রতœ-সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারপরও বিক্রমপুরে সেন রাজা, মোঘল সাম্রাজ্যের অনেক পুরাকীর্তি বিদ্যমান রয়েছে। রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন মসজিদ, মঠ, বৌদ্ধ বিহার ও মন্দির। প্রাচীন অনেক স্থাপত্য এখনো বিক্রমপুরের মাটির নীচে লুকিয়ে রয়েছে।
bbbb
পরিবেশবাদী ও বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলের- বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য হাজার বছর আগের সভ্যতা। বিক্রমপুরের প্রাচীন সভ্যতা এখনকার ইউরোপ-আমেরিকার সভ্যতার চেয়ে অনেক বেশী সভ্য, অনেক বেশী অগ্রসর। আমাদের পূর্ব-পুরুষের সভ্যতা আজকের আধুনিক সভ্যতার চেয়ে অনেক অগ্রসর ছিলেন। খনন কাজের মধ্য দিয়ে আবিস্কৃত বৌদ্ধ বিহার বিক্রমপুরের হারানো সভ্যতা পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রচনা হয়েছে। এখানে আবিস্কৃত বৌদ্ধ বিহারটি প্রাচীন সভ্যতার প্রমান করছে। এ সভ্যতা ইউরোপ ও আমেরিকার সভ্যতার চেয়ে অনেক বেশী অগ্রসর।

গত ৩০ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রতœতত্ব বিভাগের মহা-পরিচালক শিরিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সদ্য আবিস্কৃত বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করলে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও পরিবেশবাদী-কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ উপরে উল্লেখিত কথা গুলো বলেন।

মুন্সীগঞ্জের বৌদ্ধ বিহারে কিভাবে আসবেন-?

রাজধানীর গুলিস্থান থেকে মুন্সীগঞ্জের বাসে চড়ে বৌদ্ধ বিহারে আসতে খরচও পড়বে অনেক কম। বাসে চড়লে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুর এলাকার ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর পাদদেশে এসে নেমে যেতে পারেন। সেখান থেকে রিকশা বা অটোবাইক কিংবা সিএনজিতে চড়ে সর্বোচ্চ আধ-ঘন্টার মধ্যে বৌদ্ধ বিহারে পৌছানো যাবে। গুলিস্থান থেকে বাসে জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকার ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। মুক্তারপুর থেকে বৌদ্ধ বিহারে যেতে রিকশায় ৫০ টাকা ও অটোবাইক কিংবা সিএনজিতে ভাড়া লাগবে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ সদরসহ জেলার ৬ টি উপজেলার ভ্রমন প্রিয়দের বৌদ্ধ বিহারে যেতে হলে প্রথমে ধলাগাঁও বাজারে আসতে হবে। শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে রিকশা ও অটো বাইকে চড়ে ধলাগাঁর বাজারে যেতে পারেন। ধলাগাঁও বাজারের ঠিক পশ্চিম দিকে সামান্য একটু এগুলেই বৌদ্ধ বিহারের দেখা পাবেন। শহর থেকে বৌদ্ধ বিহারে রিকশাযোগে ৭০-৮০ টাকা ও অটো বাইক বা সিএনজিতে ১’শ ২০ টাকা থেকে দেড়শ’ টাকা ভাড়া লাগবে।

টাইমস্ আই বেঙ্গলী