মুন্সীগঞ্জে আলু উত্তোলনের মহোৎসব

potato2012রাজীব হোসেন বাবু: মুন্সীগঞ্জে আলু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। জেলার সর্বত্র জমি জুড়ে আলু উঠাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখন স্থানীয় কৃষকরা। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় আনন্দিত কৃষকরা। একদিকে আলুর বাম্পার ফলন অন্যদিকে বাজার মূল্য ভাল থাকায় বর্তমানে হাসি মুখে নতুন আলু বিক্রি করছে কৃষকরা। সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষকরা আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিকরাও কৃষকের নির্দেশনায় আলু উত্তোলন, জমি থেকে হিমাগারে, বাড়ির আঙ্গিনায় পৌছে দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে বাড়ির গৃহীনি ও শিশুরা জমিতে নেমে আলু তুলছেন।আলু উত্তোলন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বস্তায় ভরা, ট্রলার কিংবা ট্রাক যোগে হিমাগারে সংরক্ষনের জন্য কৃষকরা বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ যেন বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষান কৃষানীদের মহোৎসব চলছে।

সদর উপজেলার বজ্রযোগনী ইউনিয়নের ভাঙ্গা গ্রামে ১৮ শতাংশ জমিতে আলু তোলার সময় কথা হয় রামসিং এলাকার কৃষক মজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার আলুর ভাল ফলন হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশায় তাই বুকে স্বপ্ন বেধেঁ আলূ উত্তোলনে শুরু করেছে।


চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের কৃষক আলম মাদবর জানান, প্রতি বস্তা (২মন) নতুন আলু বর্তমানে ৭,শ ৫০ থেকে ৮শ টাকা করে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। বড় বড় মোকামের পাইকাররা মাঠে মাঠে ঘুড়ে বেরাচ্ছে আলু কিনার জন্য। বর্তমানে যে দরে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে তাতে কৃষকের সামান্য লাভ হবে। টানা হরতালের কারনে আলু বিক্রিতে সাময়িক সমস্যা হলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আলুর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাবে আশা করা হচ্ছে। এতে কৃষক আরও লাভবান হবে।

সদর উপজেলার আধারা গ্রামের আলু চাষী মুক্তার মাহমুদ জানান আলুতে এবার পোকার আক্রমন নেই । আলু বেশ বড় আকারে হয়েছে। সোনালী রং ধরেছে আলুতে। তাই কৃষকরা দাম পাচ্ছে ভাল।
potato2012
টঙ্গিবাড়ি উপজেলার ধামারণ গ্রামের কৃষক আলম শেখ জানান, বর্তমানে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকরা। সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা আলু উঠাতে জমিতে নেমে পড়েছে। জমির আলু উত্তোলনের পর কৃষকের বাড়ির আঙিনায় রাখা হচ্ছে। আবার অনেকে জমিতেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে ও সংরক্ষন করতে হিমাগারে রাখছে কৃষকরা।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিয়া আল মামুন জানান, চলতি বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৯’শ ৩৭ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। আর আলু আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তাই এখনও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়নি। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন ১২ লক্ষ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করছে কৃষি অধিদপ্তর।


জেলা কুষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া আলু উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়েছে। আলু আকারে বড় ও দেখতে পরিচ্ছন্ন হয়েছে। এ কারনে আলুর বাজার মূল্য ভাল পাবেন এ অঞ্চলের কৃষক।

ইউএনএসবিডিডটকম