হল-মার্কের এটি ঋণ নয়, চুরি

হল-মার্ক কেলেঙ্কারি: প্রতিক্রিয়া
সালেহউদ্দিন আহমেদ
হলমার্ক যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বা যে অর্থ লোপাট করেছে, সেটি কোনো ঋণ ছিল না। সেটি ছিল চুরি। অনেকগুলো ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ধরনের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে ঋণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তার বিপরীতে পুনঃতফসিল করার চিন্তা মোটেই যৌক্তিক নয়। এটি যদি ঋণ হতো আর সত্যিকারের কোনো ব্যবসায়ী বিশেষ কোনো কারণে তা পরিশোধে অপারগ হতেন, তাহলে হয়তো এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি চিন্তা করা যেত।

সরকার এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে সেটি হবে অপরাধীকে পুরস্কৃত করার মতো ঘটনা, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি ভুল বার্তা দেবে। ভালো ও সৎ ব্যবসায়ীরা এতে চরমভাবে নিরুৎসাহিত হবেন। আমি মনে করি, হল-মার্ক যা করেছে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আর্থিক অপরাধ—দুই আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

হল-মার্কের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেও আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা হয়তো ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই আমি মনে করি, শুধু হল-মার্ক নয়, যারা যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের সবার সম্পত্তি একত্র করে বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে হয়তো আত্মসাৎ হওয়া পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে হল-মার্কের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করে বা অন্য কোনো ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করা যেতে পারে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ: সাবেক গভর্নর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রথম আলো