সন্ধ্যা হলেই দরজায় তালা লাগিয়ে রাখতে হয়

সন্ধ্যা হলেই ঘরের দরজায় দুইটি তালা লাগিয়ে মেয়েকে নিয়ে ৫ মাস ধরে নিজের বসতঘরে রাতযাপন করছেন নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খানের স্ত্রী মায়া বেগম। বাড়ির আশপাশ দিয়ে প্রতিনিয়ত অস্ত্রধারীরা টহল অব্যাহত রাখায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কান্নাজড়িত কন্ঠে এ অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খানের বিধবা স্ত্রী মায়া বেগম।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কাজীরপাগলা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খান। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ওয়াহিদা দিয়া বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫ জনকে আসামি করে লৌহজং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


নিহত আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ে ও মামলার বাদী ওয়াহিদা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ড ও মামলা দায়ের হওয়ার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেনি। উল্টো মামলার আসামি মোবাইল কাদির ও লাবুসহ বেশ কয়েকজনের নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকার মতিঝিল এলাকায় কাদির হত্যা মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়া, লিজ নেওয়া জলাশয়, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাসহ একাধিক কারণে তার বাবা মোবারক হোসেন খানকে হত্যা করা হয়।

ওয়াহিদা দিয়া আরও জানান, ঢাকার মতিঝিলে কাদির হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দেওয়ায় নয়জনের ফাঁসি ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর থেকেই হত্যাকারীরা মোবারক হোসেন খানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

এ কারণে হত্যাকারীরা পরিকল্পনা করে হান্নান নামের এক ভাড়াটে কিলারকে নিযুক্ত করে। পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়ার পর হান্নান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও জড়িতদের নাম জানিয়েছে আদালতে।


মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করে দেওয়া হয়। এমনকি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও বদলি করে নতুন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ সুযোগে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিউর রহমান ও মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা জুলহাস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের চার্জশীট থেকে নাম বাদ দেওয়ার পায়তারা করছে।

বর্তমানে সুজন নামের এক সন্ত্রাসী প্রতিনিয়ত তাদের মেরে ফেলার হুমিক দিচ্ছে জানিয়ে নিহত আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী মায়া বেগম স্বামী হত্যার সুষ্ঠ বিচার ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম