পদ্মার রূপ দেখলেন বিদেশি বন্ধুরা

mawa-foreign-deligate-bg20130325081029নৌ ভ্রমণে পদ্মার নৈসর্গিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি দেশাত্ববোধক গানসহ দেশীয় নৃত্য শিল্পীদের নাচের তালে তালে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশি বন্ধুরাও নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেছেন। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীতে নৌ ভ্রমণে দেশাত্ববোধক গান, সঙ্গে দেশীয় নৃত্য তাদেরকে আরও অভিভূত ও মুগ্ধ করে তুলেছিল।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর ভ্রমণ জাহাজ “শক্তি সঞ্চার” -এ চড়ে নৌবিহারে বের হন বিদেশি বন্ধুরা।

এ সময় ভ্রমণ জাহাজ মাওয়া থেকে শ্রীনগরের ভাগ্যকুল পর্যন্ত গিয়ে আবারও মাওয়া ঘাট হয়ে পূর্ব দিকে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে আসে। পরে দুপুর ২টার দিকে মাওয়া ঘাটে পৌঁছে বিদেশি বন্ধুরা ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন।

এদিকে, নৌ ভ্রমণের সময় একুশে পদক প্রাপ্ত কাদেরী কিবরিয়ার নেতৃত্বে দেশীয় শিল্পিরা দেশাত্ববোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে ভ্রমণ জাহাজে থাকা বিদেশি বন্ধুদের মাতিয়ে তোলেন।

এ সময় বিদেশি বন্ধুরাও দেশীয় শিল্পীদের সঙ্গে নৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া দেশীয় নৃত্য শিল্পীদের নৃত্য উপভোগের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশি বন্ধুরা পদ্মার নৈসর্গিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
mawa-foreign-deligate-bg20130325081029
জানা গেছে, ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০ জন বিদেশি বন্ধু সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়ায় পৌঁছেন।

এ সময় ভ্রমণ জাহাজ “শক্তি সঞ্চার” এ থাকা সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল, পুলিশ সুপার মো. হাবিববুর রহমান তাদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল বাংলানিউজকে জানান, মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশি বন্ধুরা সেনাবাহিনীর ভ্রমণ জাহাজ “শক্তি সঞ্চার” এ চড়ে পদ্মার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখেছেন। তাদের সঙ্গে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভ্রমণ জাহাজে অবস্থান নিয়ে পদ্মা নদী ও এর নৈসর্গিক দৃশ্য সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য বিদেশি বন্ধু অতিথিদের কাছে তুলে ধরেন।

তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বাংলানিউজকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের পরম বন্ধু বিদেশি অতিথিদের জন্য মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ নৌ-বিহার আয়োজন করা হয়।

এছাড়া অতিথিদের আপ্যায়নসহ দেশীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তারা নৌ ভ্রমণে আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে অভিভূত হয়ে দুপুর ২টার পর ঢাকায় ফিরে যান।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
================

পদ্মার সৌন্দর্যে অভিভূত বিদেশি বন্ধুরা

মুন্সীগঞ্জে পদ্মায় নৌ-বিহারের মধ্য দিয়ে নদীমাতৃক বাংলার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করলেন বিদেশি বন্ধুরা। জেলার লৌহজং, শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাছে পদ্মায় নৌ-ভ্রমণে বের হন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সহায়তাকারী বিদেশি পরম বন্ধুরা। নৌ-ভ্রমণের পুরো সময় দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্যশৈলীতে মেতে ওঠেন তারা। ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের বন্ধুরা গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্রোতস্বিনী পদ্মার জলরাশিতে জাহাজে চড়ে ভেসে বেড়ান। এ সময় পদ্মার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে বিমোহিত হন তারা। পদ্মাপাড়ের ছোট ছোট গ্রামের অপূর্ব দৃশ্য মন কাড়ে তাদের। চার ঘণ্টা পদ্মার জলরাশির সঙ্গে ছিলেন তারা।

সেনাবাহিনীর ভ্রমণজাহাজ ‘শক্তি সঞ্চার’ বিদেশি বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া থেকে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ও পরে মাওয়া থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পর্যন্ত।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, সকাল ১০টায় জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়াঘাট থেকে শক্তি সঞ্চার জাহাজে নৌ-ভ্রমণে বের হন বিদেশি বন্ধুরা। জানা গেছে, ভ্রমণের শুরুতে বিদেশি বন্ধুরা মাওয়াঘাট থেকে রওনা দিয়ে পদ্মাবক্ষের জেলা শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল পর্যন্ত যান। সেখান থেকে আবার মাওয়াঘাটে ফিরে আসেন। পরে মাওয়াঘাটের পূর্বদিকে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিকে পদ্মা নদী দেখতে ছুটে যান তারা। খাবার শেষে দুপুর ২টার দিকে বিদেশি বন্ধুরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

পদ্মায় নৌ-বিহারের আনন্দ সম্পর্কে সম্মাননা পাওয়া পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীর বলেন, এ ভ্রমণ সত্যি রোমাঞ্চকর। অভূতপূর্ব এক আনন্দঘন পরিবেশে মিলিত আমরা বন্ধুরা।

জাহাজে বাজতে থাকে দেশাত্মবোধক, রবীন্দ্রসঙ্গীত
বিদেশি বন্ধুদের নৌ-ভ্রমণের পুরো সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গীতশিল্পীদের কণ্ঠে বাজতে থাকে দেশাত্মবোধক, হিন্দি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। বাংলাদেশের শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, ভারতের অনুশ্রী ঠাকুর, সুমিত প্রমুখ শিল্পী দেশাত্মবোধক, হিন্দি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। নৃত্যের তালে তালে নাচেন মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখা ভারতের সাবেক সেনা জেনারেল মহেন্দ্র সিং।

খাবারের তালিকায় নেই পদ্মার ইলিশ!
মুক্তিযুদ্ধের পরম বন্ধুদের দুপুরের খাবারের তালিকায় ছিল না পদ্মার ইলিশ। দেশি-বিদেশি রকমারি খাবারে তাদের আপ্যায়ন করা হয়। বেশ কিছু মেনু থাকলেও তালিকা থেকে বাদ থাকে রূপালি ইলিশ। বিদেশি বন্ধুরা পদ্মার সঙ্গে মিশে গেলেও এর রূপালি ইলিশের স্বাদ নিতে পারলেন না।

সমকাল