লৌহজংয়ে সরু সেতু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় সেতুটি অত্যন্ত সরু। এটি দিয়ে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলতে পারে না। সেতুটির রেলিংও গেছে ভেঙে। এদিকে পশ্চিম প্রান্তের রাস্তাটি সেতু থেকে প্রায় ৯০ ডিগ্রি বাঁকা। এসব কারণে বাস, ট্রাকসহ যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হতে হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, লৌহজং-মাওয়া-ঢাকা সড়কের ঘোড়দৌড় বাজারের ওই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে। সেতুটির পূর্ব পাশে একটু এগোলেই বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র পদ্মা রিসোর্ট। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর মানুষ বড় বাস, মাইক্রোবাস নিয়ে এ রিসোর্টে আসেন। কিন্তু সেতুতে উঠতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় চালকদের। সেতুর অন্য প্রান্তের সড়কে যানবাহন থামালেই তবে সেতুতে উঠতে পারেন তাঁরা। যানবাহনের মধ্যে বড় বাসের চালকদের অত্যন্ত কৌশলে ৯০ ডিগ্রি বাঁক অতিক্রম করতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেতুর রেলিং ভাঙে, হতাহত হয় পথচারীরা।

কথা হয় লৌহজং-ঢাকা পথে চলাচলকারী গাংচিল পরিবহনের বাসচালক মো. সাইদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই সেতুর কাছে আইলে এমন দিন নাই যে যানজটের মধ্যে পড়তে হয় না। সরু সেতু আর বাঁকের লেইগা সেতু দিয়া যাইতে অনেক বেগ পাইতে হয়। মাঝে মাঝে সেতুর পাশের রেলিংয়ে গাড়ি লাইগ্যা যায়। দুইডা গাড়ি এক লগে পার হইতে পারে না।’

লৌহজং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আট নয় বছর আগে সেতুটি নির্মাণের সময় কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, এই বাঁকে সমস্যা হবে। তারা বলেছিল, ‘‘সেতুটির পাশ দিয়ে আরেকটি সেতু করা হবে।’’ পরে আর সেটি করা হয়নি। এই বাঁকের কারণে সেতু ও বাসের মধ্যে চাপা পড়ে কয়েকজন মানুষও মারা গেছে।’

শিগগিরই সেতুটি ভেঙে বাঁক ঠিক করে নতুন করে সেতু বানানো প্রয়োজন বলে মনে করেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন।
প্রায় একই কথা বলেন পদ্মা রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, সেতুটির কারণে পর্যটকেরা বড় বাস নিয়ে আসতে পারেন না। ছোট বাস বা মাইক্রোবাসে করে আসতে গেলে তাঁদের খরচ পড়ে বেশি। অবিলম্বে সেখানে একটি বড় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (শ্রীনগর সার্কেল) শেখ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, এ পথ ব্যস্ত। কিন্তু সেতুটি অনেক সরু। বাঁকও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় নতুন সেতু নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

তানভীর হাসান, প্রথম আলো