ঘরপোড়া ১৭ পরিবার লঙ্গরখানায়

সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জ্বালিয়ে দেয়া ১৭টি পরিবারের ঠিকানা মেলেনি। একই গোষ্ঠীর ১৭ পরিবারের বসতভিটা এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। তাদের ঘরের ভেতরের সহায়-সম্বল যা ছিল সবই আগুনে পুড়েছে। সংঘর্ষের ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন করে বসতঘর তোলাও সম্ভব হয়নি। সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি-বালুরচর ও আকবরনগর গ্রামের লঙ্গরখানায় সরজমিন ঘুরে-ফিরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। মোল্লাকান্দি-বালুরচর গ্রামের মুন্সী গোষ্ঠীয় শফিউদ্দিন, আবদুল হালিম, আলেক মুন্সী, সিদ্দিকুর, আবদুল আজিজ, আলাউদ্দিন মুন্সীসহ ওই ১৭ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে বসতঘরের ছাইভস্ম। পথে বসতে বসেছে পরিবারগুলো। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বালুরচর বাজারের টেন্ডার নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেক চাঁন মুন্সী ও প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নূরু বাউল গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মোল্লাকান্দি-বালুরচর গ্রাম।

এ সময় ১৭টি পরিবারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। আলেক চাঁন মুন্সী নিজেই বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৬৫ জনকে এবং অপর পক্ষের নূরু বাউলের পক্ষে বাজার কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে ৮৯ জনকে আসামি করে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে ঘটনার পর পরই গ্রেপ্তার আতঙ্কে উভয়পক্ষের ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ওইসব গ্রামছাড়া নারী-পুরুষের জন্য সিরাজদিখান উপজেলার আকবরনগরে খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা। নিকট আত্মীয়-স্বজন বলতে যাদের কেউ নেই, সেসব শতাধিক নারী-পুরুষ আকবরনগর গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে ওই লঙ্গরখানার মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পেয়েছেন। বালুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেক চাঁন মুন্সীকে গ্রেপ্তারের দাবি ও বিচার চেয়ে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন করা হয়। আলেক চাঁন মুন্সীর চাঁদাবাজির কারণে কমপক্ষে ৬টি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে বলে ইটভাটা মালিকরা দাবি করেন।

গত ১৩ই মার্চ আলেক চাঁন মুন্সীর বাসভবনের সামনের সড়কে মানববন্ধন করা হয়। প্রতিপক্ষ নূর হোসেন বাউল বলেন, আমিন সরকার, সোহেল সরকার ও খোকন সরকারসহ ৬টি ইটভাটা মালিকের কাছে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে আলেক চাঁন মুন্সী। তার ভয়ে ওইসব ইটভাটা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই নিরীহ গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গ্রামছাড়া করেছে। এ প্রসঙ্গে বালুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেক চাঁন মুন্সী বলেন, আওয়ামী লীগ করি, নিজ দল সরকার ক্ষমতায়। তারপরও গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

এমপির মধ্যস্থতায় গরুর হাট মিলেমিশে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু নূরু বাউল তা না করে আমার ওপর চড়াও হয়ে আমাদের কয়েকটি বাড়িঘর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আমিসহ আমার লোকজন এলাকায় যেতে পারছি না। তারা তাদের পক্ষের সাংবাদিকদের এনে তাদের পরামর্শে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানববন্ধন করায়। তিনি আরও বলেন, আমার গোষ্ঠীর লোকজন কোনদিনই মাদক ব্যবসা আর চাঁদাবাজি করেনি। বালুচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আলেক চাঁন মুন্সী গ্রামটাকে জ্বালাতন করে চলছে।

মানবজমিন