মসজিদে তালা-নাস্তিকদের পাহারা দিচ্ছে সরকার

Khaleda-Zia-bg20130315093400মসজিদে তালা আর নাস্তিকদের পাহারা দিচ্ছে সরকার বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “শাহবাগের নাস্তিকরা নবীজী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে। তারা যে ভাষা ব্যবহার করেছে, মুখে বলা সম্ভব নয়, পড়াও সম্ভব না। এতে মুসলমানদের মনে আঘাত লাগে। সে জন্য তারা কর্মসূচি দিয়েছিল। প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। সরকার সেখানে তালা দিয়ে রেখেছে। মসজিদে ঢুকতে দেয় না। অন্যদিকে, নাস্তিকদের পাহারা দিয়ে রেখেছে। সরকার একদিকে মসজিদে তালা দিয়ে রেখেছে। আর অন্যদিকে নাস্তিক-নষ্ট প্রকৃতির লোকদের পাহারা দিচ্ছে।”

শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং গোয়ালীমান্দ্রা বাজারে সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির দেখার পর এক সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, “সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সে জন্য ইস্যু খোঁজে। এখন মন্দির ভাঙা শুরু করেছে। এরপর মসজিদও ভাঙতে পারে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।”

তিনি শাহবাগের মঞ্চ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মঞ্চ বন্ধ না হলে জনগণ ঢাকার দিকে হাঁটা শুরু করবে।”

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, “মন্দির ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের না ধরে সরকার বিএনপি নেতাদের হয়রানি করছে।”

তিনি বলেন, “এখানে হামলা করা হয়েছে। তাই, দেখার জন্য এসেছি। যারা মন্দির ভেঙেছে, তাদের সরকার ধরেনি। উল্টো বিএনপির ওপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা সকল ধর্মের মানুষকে সম্মান করি। মর্যাদা দেই। কিন্তু আজ কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। প্রতিনিয়ত তারা খুন করে চলেছে। খবরের কাগজে শুধু লাশ আর লাশ দেখা যায়। ডোবায়, জঙ্গলে লাশ পাওয়া যায়।”

গণজাগরণ মঞ্চের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তারা বলে- তরুণদের দাবি। এই তরুণরা সেখানে শুধু নাচে আর নানা অপকর্ম করে। পত্রিকা বন্ধ করতে বলে। তারা সরকারের দুর্নীতির কথা বলে না। কর্মসংস্থানের কথা বলে না। সীমান্তে বিদেশিরা মানুষ হত্যা করে, তা বলে না। শুধু ফাঁসি, ফাঁসি আর ফাঁসি। সরকার তাদের টাকা দিয়ে খাবার দিয়ে লালন-পালন করছে।”

গণজাগরণ চত্বরের তরুণদের সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অভিযোগ, “তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। তারা নষ্ট প্রকৃতির। তারা আদালত মানে না, দেশের আইন মানে না। রাস্তা বন্ধ করে দিনের পর দিন এসব কাজ করছে।”

তিনি দাবি করে বলেন, “শাহবাগের নাস্তিকদের যখন দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন হিন্দুদের মন্দির ভাঙা শুরু করেছে। সরকারকে আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আর যদি কোনো মন্দির ভাঙা হয় জনগণ রুখে দেবে, সে জন্য শাস্তি পেতে হবে।”

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির আওয়ামী লীগের লোকেরা ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “যে (মন্দির) ভেঙেছে, তার ছবি পত্রিকায় এসেছে। তাকে না ধরে প্রধানমন্ত্রী বিদেশে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে গেছেন। এখন নানা রকম বাহানা করছে। সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মহীনতার কাজ করছে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “পদ্মা সেতু, শেয়ার বাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি এসব নিয়ে যখন লেখালেখি হচ্ছে, দুর্নীতি নিয়ে যখন তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে, তখন দৃষ্টি ফেরানোর জন্য শাহবাগে নাস্তিকদের নিয়ে মঞ্চ তৈরি করেছে সরকার। তারা বলে- ফাঁসি চাই। তরুণ সমাজ রাজাকারদের ফাঁসি চায়।”

তিনি বলেন, “আমরাও বলেছি, মানববতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চাই। দলমত দেখলে চলবে না। বিচার করতে হলে সবার বিচার করতে হবে। তারা শুধু বিএনপি আর জামায়াতের লোকদের ধরেছে।

শাহবাগের তরুণদের পরিচয় সর্ম্পকে খালেদা জিয়া আরও বলেন, “তারা নিরপেক্ষ ছেলে নয়। সব আওয়ামী লীগ ঘরানার লোকজন। সরকার একদিকে তাদের লালন করছে; অন্যদিকে আমাদের সমাবেশে হামলা করে পণ্ড করে দিচ্ছে। অফিসের সামনে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। দলের অফিস ভেঙে তছনছ করেছে। ১৫৪ জনকে ধরে নিয়ে গেছে। এই কি পুলিশের কাজ? আমি দেখে অবাক হয়ে গেছি। মনে হয়, যেন ডাকাত পড়েছে। টাকা-পয়সা, কাগজপত্র সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে।”

নিজ দলের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “আমাদের দলীয় কার্যালয়ে দিনরাত বিপুলসংখ্যক লোক আসে-যায়। সেখানে কাজ-কর্ম চলে। কিন্তু, পুলিশ পকেটে করে বোমা নিয়ে রেখেছে। সাংবাদিকদের বের করে বোমা রেখে আবার তাদের ডেকে বলে- বোমা পেয়েছি। বিএনপি অফিস বোমা রাখার জায়গা না।”


সরকারের ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেন, “এই ব্যর্থ সরকার সন্ত্রাস শুরু করেছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। কেলেঙ্কারি অপকর্ম ঢাকার জন্য গণহত্যা শুরু করেছে। পদ্মা সেতু শুরু হওয়ার আগেই কমিশন খেয়ে বসে আছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়নি। অন্য সংস্থাগুলোও ফিরে গেছে। লোক দেখাতে তারা হয়ত একটা ভিত্তিপ্রস্তর দেবে। কিন্তু, সেতু করতে পারবে না। এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতিবাজ।”

বর্তমান সরকার সময় মুন্সীগঞ্জে কোনো উন্নয়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। এলাকার যা উন্নয়ন হয়েছে, তা তার সরকারের শাসনামলে হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা আবার নির্বাচিত হলে মন্দির নির্মাণ করে দেবো এবং এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করবো।”
Khaleda-Zia-bg20130315093400
তিনি বলেন, “সরকার মিটিং-মিছিলে হরতালে কথায় কথায় গুলি করে। জেলে এমনভাবে মানুষ রেখেছে আর রাখার জায়গা নেই। এরা গণহত্যা করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এভাবে কেউ কোনো দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি; এরাও পারবে না। এখন সময় হয়েছে নিরপেক্ষ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন দিন।”

তিনি বলেন, “হরতাল হলেই পুলিশ, র‌্যাব সব রাস্তায় নামায়। অথচ আওয়ামী লীগের লোকেরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে। তারা বিশ্বজি‍ৎকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না।”

পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে খালেদা বলেন, “পুলিশ ভাইয়েরা আপনারা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন। এই হত্যা বন্ধ করেন। কিছু দলবাজ ও বিশেষ জেলার কিছু পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে মানুষ হত্যা করছে। ফলে, পুরো পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

পুলিশ যদি এভাবে মানুষ হত্যা করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে পুলিশ বাহিনীকে আগামীতে শান্তি মিশনে জাতিসংঘ নিষিদ্ধ করবে বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।

গ্রেফতার হওয়া দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি না দিলে ১৮-১৯ মার্চ হরতাল দেবে বিএনপি বলে জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা বলেন, “যুবকদের বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকার যুবকদের জন্য কিছু করেনি। অতীতেও ব্যবহার করেছে। প্রয়োজনে হত্যা করেছে। রক্ষী বাহিনীর সময় ৪০ হাজার হত্যা করেছে। এখন অন্যায় কাজে ব্যবহার করছে। ১৬ কোটির মধ্যে ৫ কোটি যুবক হবে। এক পার্সেন্টও শাহবাগে হবে না।”

খালেদা জিয়া বলেন, “এই সরকার গুলি করে ১৭০ জনকে হত্যা করেছে। তার দায় এড়াতে পারবে না তারা। এখন ক্ষমতায় আছেন কাউকে ধরছেন না। ক্ষমতা থেকে বিদায় হলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।”

মুন্সীগঞ্জের লোকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বেগম জিয়া বলেন, “মুন্সীগঞ্জে অনেক ধান হয়। আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। তা না করতে দিয়ে বিদায় করে দিয়েছেন। নারীরাও ঝাড়ু নিয়ে গেছে। এ রকমভাবে সবাইকে রাস্তায় বের হতে হবে এই সরকারের বিরুদ্ধে। শান্তির বাংলাদেশ, উন্নয়নের বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়বো। সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে এই দেশ গড়ে তুলবো।”


এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় গুলশানের বাসা থেকে গাড়ি বহর নিয়ে খালেদা জিয়া মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়ে ঢাকা-মাওয়া সড়ক ধরে বিকেল ৫টায় লৌহজং পৌঁছেন তিনি।

খালেদা জিয়া গোয়ালীমান্দ্রায় প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন ও স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর গোয়ালীমান্দ্রা বাজারে একটি সমাবেশে বক্তব্য দেন।

রাত ৭টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, মিজানুর রহমান সিনহা, আবদুল হাই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
================

সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার করা হবে : খালেদা জিয়া

খালিদ হোসেন/মোজাম্মেল হোসেন সজল, মুন্সীগঞ্জ লৌহজং থেকে ১৫ মার্চ (জাস্ট নিউজ) : বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, আপনারা খেয়াল রাখবেন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব সমপ্রদায়ের প্রার্থনা কেন্দ্রে কেউ যাতে হামলা করতে না পারে।

বেগম জিয়া বলেন, সরকার শাহবাগে নাস্তিকদের লালন পালন করছে। শাহবাগীদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় সরকার এখন হিন্দু সমপ্রদায়ের মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। এরপর মসজিদেও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালিমান্দ্রা কালীমন্দির মাঠের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শাহবাগের মঞ্চ বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ওই মঞ্চ বন্ধ না করলে, জনগণের মঞ্চ তৈরি হবে। সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকায় গিয়ে জনগণের মঞ্চে অবস্থান করবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না।

বেগম খালেদা জিয়া বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে গোয়ালিমান্দ্রায় পৌঁছে প্রথমেই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কালীমন্দির পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন। বেগম খালেদা জিয়া কালীমন্দির এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় জনতা করতালি আর স্লোগানে মুখরিত করে তোলে জনসভাস্থল। বক্তব্য শেষে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদকের কাছে মন্দির সংস্কার এবং পূজার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

৩০ মিনিটের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এর আগে রামু, উখিয়া, পটিয়ায় বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। বরং পুরস্কারস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী হামলাকারীদের সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশে নিয়ে গেছেন।

সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বেগম জিয়া বলেন, অন্য সমপ্রদায়ের ওপর হামলা বন্ধ করুন, নইলে জনগণ আপনাদের রুখে দেবে।

খালেদা জিয়া বলেন, শাহবাগে যারা আন্দোলন করছে তারা আওয়ামী লীগ এবং নাস্তিক ঘরানার লোক। এরা কোনো ধর্ম মানে না, আইন মানে না, আদালতের রায় মানে না। তারা বিচার বিচার খেলা শুরু করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শাহবাগের তরুণরা দেশের কথা ভাবে না, কর্মসংস্থানের কথা ভাবে না। সরকারের দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থার কথা ভাবে না। তারা শুধু ফাঁসি চায়।

তিনি বলেন, মহানবী (স) সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে যা ভাষায় বলা যায় না। আলেম সমাজ এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছে। সরকার মসজিদে তালা মেরে বন্ধ করেছে। একদিকে মসজিদে তালা অন্যদিকে রাস্তাঘাট বন্ধ করে নাস্তিকদের অপকর্মে সহায়তা করছে সরকার।

সরকার পতনের কর্মসূচিতে সকলকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এখন থেকে যে কর্মসূচি দেয়া হবে আপনারা শরিক হবেন। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। নেতাদের মুক্তি না দিলে ১৮ ও ১৯ মার্চ হরতাল আছে। আপনারা কঠিনভাবে হরতাল পালন করে সরকারকে সমুচিত জবাব দেবেন। সকল পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ভার নিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার আমরাও চাই। এখানে দলমত দেখা যাবে না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন শুধু বিএনপি-জামায়াত নেতাদেরই ধরা হয়েছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই রাজাকার। রাজাকারের বিচার করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধরা উচিত।

ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসিটিনি, সোনালী ব্যাংক, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ঢাকতে সরকার গণহত্যা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এ গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সরকারের বিচার করা হবে।

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মিশনে নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশের সদস্যরা যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ যে গণহত্যা চালাচ্ছে জাতিসংঘ পুলিশকে নিষিদ্ধ করবে। তিনি বলেন, বিশেষ জেলার কিছু দলবাজের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলাকারীদের বিচার করা হবে। সরকার আড়িয়ল বিলে কৃষিজমি দখল করে অপ্রয়োজনীয় বিমানবন্দর করতে চেয়েছিল। কিন্তু আপনারা দলমত জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। এ জন্য আমি আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুুরী, গৌতম চক্রবর্তী, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অর্পনা রায়, জাসাসের সাবেক সম্পাদক বাবুল আহমেদ, খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারী প্রেস সচিব মহিউদ্দিন খান মোহন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি সম্পাদক রিপন মল্লিক, লৌহজং থানা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান খান, সম্পাদক কোহিনুর সিকদার, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীনগর বিএনপি সভাপতি মোমিন আলী, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, টঙ্গিবাড়ি বিএনপি সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, যুবদল নেতা তারিক কাশেম খান মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল ও গোলাম গাউস সিদ্দিকী।

জাস্ট নিউজ