সবচেয়ে বয়স্ক নারী ১২৫ বছরের মন বাহার রাজাকারের ফাঁসি দেখে যেতে চান

bahar“ভাই একটা বিয়া হইছে সোয়ামীর লগে। অহন আরেকটা বিয়া বাকী রইছে, হেইড্যা অইলো মরন। ওই বিয়ার লাগা পথ চেয়ে আছি-কথাগুলো বলেছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার মোল্লাকান্দি-বালুরচর গ্রামের মন বাহার। রাজধানীর কাছে মুন্সীগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বেশী বয়স্ক নারীই এখন এই মন বাহার। ১’শ ২৫ বছর বয়স তার। এখনো ষোড়শী তরুনীর কন্ঠের মতোই স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন। সোয়াশ’ বছর মন বাহার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখে যেতে চান। মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন তিনি স্বচক্ষে। স্বাধীনতার শত্রু জামায়াত-শিবির তথা একাত্তরের রাজাকারের ফাঁসি হউক-এটাই তার শেষ জীবনের দাবী বলে তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে জানালেন স্থানীয় সাংবাদিকদের। তার ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। এদের ঘরে রয়েছে দু’ডজনের মতো নাতী-নাতনী। তিনি বেঁচে থাকলো নিজের জীবদ্দশায় ২ ছেলের মৃত্যু দেখেছেন তিনি। সোয়াশ” বছরের জীবনে মন বাহার দেখেছেন পাক-ভারত যুদ্ধ, বঙ্গবঙ্গ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ। তার প্রিয় নেতার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। তিনি বলেন- শেখ সাব। শেখ জন্ম না হলে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পাইতো না, বাঙ্গালীর মুক্তি আসতো না। মন বাহার নিজেকে খাটি বাঙ্গালী মনে করেন। মনের দিক দিয়ে এখনো তিনি নিজেকে গ্রামের গৃহবধুর মতোই জীবন যাপন করেন। বয়সে ছোটদের তিনি স্নেহ ও বড়দের সম্মান করতে পছন্দ করেন।


এদিকে, মন বাহারের বাবার নাম নিজাম উদ্দিন বাউল। স্বামী গনি মিয়া এখন আর নেই। তিনিও শত বছর পেয়েছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী গনি মিয়া প্রয়াত হলেও এখনো দিব্যি সুস্থ্য রয়েছেন সোয়া’শ বছরের নারী মন বাহার। তবে সব ধরনের খাবার খেতে পারেন না। মাঝেমধ্যে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হলেও কঠিন কোন রোগবালাই নেই তার। নাতী নাসির মেম্বারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক এসেছেন শোনে বেজায় খুশি হন মন বাহার। শরীরে শত ভাঁজ পড়ে গেছে তার। তবে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েননি মন বাহার।


নাতি নাসির মেম্বার জানান, দাদী আগের মতো আর খেতে পারেন না। এটাই আমাদের আমার কষ্ট। দাদীকে কত কিছু না খাওয়াতে ইচ্ছা করে, কিন্তু ডাক্তারের নিষেধ থাকায় খাবারের ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় বাড়িতে। নাতী নাসির মেম্বার আরো জানান, দেশের খোঁজ-খবর সব রাখেন তার দাদী। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গনজাগরনের কথাও জানেন তিনি। রাজাকারের ফাঁসি ও স্বাধীনতার শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করা হউক এটাই মন বাহারের শেষ চাওয়া।
bahar
টাইমস্ আই বেঙ্গলী