মুন্সীগঞ্জে ঘরে-বাইরে-হাটে-মাঠে-ঘাটে সোনার আলু

photo-1-munshiganj-1414গোল আলু তো নয় কৃষকের কাছে এ যেন একেকটি গোলাকার সোনা। গোল সোনার দেশ মুন্সীগঞ্জে এখন চলছে আলূ তোলার ধুম। কৃষককুল আলু তোলায় বেজায় ব্যস্ত মাঠে। সারি সারি আলু তোলার পর বস্তাবন্দি করা থেকে শুরু করে কোল্ড ষ্টোরেজ কিংবা বাজারজাত করনে আলু চাষীদের চারপাশে তাকানোর ফুসরত নেই। মুন্সীগঞ্জের ঘরে ঘরে গোল গোল সোনার আলুর স্তুপ। এবার মুন্সীগঞ্জে আলুর ফলন ভালো। তাই কৃষকের চোখে-মুখে খুশির জোয়ার লেগেছে। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। এবার মুন্সীগঞ্জে ল্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদনের ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে এবার আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে স্বপ্নের হাতছানি দিচ্ছে গোল সোনার ওই আলু। সপ্তাহখানেক ধরে মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬ টি উপজেলা জুড়ে আলু তোলার উৎসব শুরু হয়েছে। কৃষকের সঙ্গে আলু তোলার কাজে কৃষানী ও শিশুরাও নেমে পড়েছে মাঠে। বাম্পার ফলন তো রয়েছেই, তার সঙ্গে উত্তোলনের শুরুতেই এবার আলুর বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। তাই তো কৃষকের ঘরে-বাইরে, উঠানে-বিছানায়, হাটে-মাঠে-ঘাটে সর্বত্রই গোল সোনার আলু গড়াগড়ি খাচ্ছে। এবার আলুতে বেশ লাভবান হবেন কৃষকরা-এমন আশায় বুকে বেঁধেছেন জেলার হাজারো আলু-চাষী।


জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আল মামুন জানান, চলতি বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৯’শ ৩৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। ল্যমাত্রা ছাপিয়ে এবার জেলায় ৩৬ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের ল্যমাত্রা এখনই নিরুপন করা যাচ্ছে না বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর দাবী করেছে। তবে ল্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন আলু উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার, মোল্লাকান্দি, আধারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে- কৃষককুল আলু তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সদরের চরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে দিগন্ত জোড়া মাঠের পর মাঠ জুড়ে যেন গোল সোনা আলুর সমারোহ। চারপাশে যেদিকে দৃষ্টি পড়ে সর্বত্র শুধুই আলু আর আলুর দৃশ্য পলক চোখে পড়ে। দেখা গেছে- কৃষকরা মাঠের মাটি খুঁড়ে তুলে আনছে একেকটি গোল সোনা। আবার উত্তোলন শেষে মাঠেই গোল সোনার স্তুপ করে রাখছেন। পরে এ গোল সোনা বস্তাবন্দি করে বিক্রির জন্য বাজারজাত করা হবে। আবার কেউ কেউ এখনই বস্তাবন্দি গোল সোনা সংরনের জন্য কোল্ডষ্টোরেজে নিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা সদরের রামশিং গ্রামের চাষী মজিবুর রহমান জানান, তোলার শুরুতেই আলুর ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। জমি থেকেই ২ মন ওজনের প্রতি বস্তাভর্তি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮’শ ৫০ টাকা করে। এ দাম সপ্তাহ খানেক শেষে আরো বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। আলুতে এবার পোকার আক্রমনও নেই। সোনারংয়ের এ আলু এখন চাষীর সোনালী স্বপ্ন পুরনের পথ দেখাচ্ছে। জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারন গ্রামের আলু চাষী আলম শেখ জানান, এবার আলুতে তারা বেশ লাভবান হবেন। আলু তোলায় কৃষককুল মাঠেই দিনরাত সময় অতিবাহিত করছে। রাতের ঘুম পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে তাদের। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষককুল দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘন্টাই ব্যস্ত আলু উত্তোলনে।

এদিকে, জেলার সিরাজদীখান, লৌহজং, শ্রীনগর, গজারিয়া, টঙ্গিবাড়ী ও সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই আলু তোলার মহোৎসব চলছে। বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকদের অবিরাম আলু তোলার দৃশ্য সত্যি অপূর্ব এক চিত্র। সদর উপজেলার চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের তাঁতীকান্দি গ্রামের আলু ব্যবসায়ী আক্তার মাহমুদ জানান, সবে আলু তোলা শুরু হয়েছে। মার্চের পুরো মাস জুড়েই এ আলু তোলার মহাউৎসবে মেতে থাকবে কৃষক। পাইকাররা ইতিমধ্যেই আলু সংগ্রহ করতে শুরু করে দিয়েছে। দেশের বৃহদাকার মোকামের পাইকাররা মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মাঠময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঠেই পাইকাররা বস্তাপ্রতি (২ মন) ৮’শ ৩০ টা থেকে ৮’শ ৫০ টাকায় আলু কিনে নিচ্ছেন। আলুর বাজার আরো চড়া হবে বলে আলু ব্যবসায়ীরা ধারনা করছেন। বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার আলু চাষে খরচের তুলনায় দাম বেশী পাওয়ায় চাষীদের মধ্যে আনন্দ বন্যা বইছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার আধারার আলী চাষী মুক্তার মাহমুদ। তিনি জানান, এবার একেকটি আলু বেশ বড় আকারে হয়েছে কোন পোকা-মাকরের বালাই নেই। সোনালী রং ধরেছে আলুতে। তাই কৃষকরা বেজায় খুশি এবার আলুতে।
photo-1-munshiganj-1414

টাইমস্ আই বেঙ্গলী