ফারিয়া ও জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির দ্বন্দ্বে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ

সামসুল হুদা হিটুঃ বার্ষিক বনভোজনের জন্য সহযোগিতার নামে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ফার্মাসিউটিক্যালস্ রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাসোশিয়েসন ফারিয়া ও ফার্মাসিস্টদের সংগঠন জেলা ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। ঘোষণা দিয়ে ও চিঠি দিয়ে ফারিয়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পৃথক ৫ টি মার্কেটসহ শহরের শতাধিক ওষুধের দোকানে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর পুরো জেলায় জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ফারিয়া তথা সব কোম্পানী থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

পুরা জেলায় অন্তত দেড় থেকে ২ হাজার ওষুধের দোকানে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে ফারিয়া বলছে, সব কোম্পানীর ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।


অপরদিকে, জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি বলছেন, শুধুমাত্র স্কয়ার, অপসোনিন, ড্রাগ ও পপুলার-এ ৪ টি কোম্পানীর ওষুধ নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত রোববার থেকে জেলা শহরসহ ৫টি উপজেলায় এ ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত ৮ মার্চ থেকে ফারিয়া ঘোষণা ও চিঠি দিয়ে সদর উপজেলার শহরসহ ৭টি মার্কেটে ক্যামিস্টদের দোকানে ওষূধ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে ফারিয়া ও জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি এখন মারমুখি অবস্থান নিয়েছে।

জেলা ফারিয়ার সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ লিখিতভাবে জানান জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি তাদের বার্ষিক বনভোজন ও সাধারণ সভার নামে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। আমরা দেড় লাখ টাকা দিতে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেই। কিন্ত তারা তা না মেনে পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করলে জটিলতার সৃস্টি হয়। গতবার আমরা তাদের ১ লাখ ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এর পর তারা ফারিয়ার মাধ্যমে টাকা না নিয়ে সরাসরি কোম্পানীর মাধ্যমে নিবে বললে আমরা হাফ ছেড়ে বেঁচে যাই। এরই মধ্যে তারা পপুলার ও ড্রাগ কোম্পানীর ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পরে ফারিয়া জরুরী সভা আহ্বান করে শহরের সুপার মার্কেট, সদর রোড, হাসপাতাল রোড, মাঠপাড়া ও স্টেডিয়াম, কাচারি ও বাজার রোড, মুক্তারপুর এবং রিকাবীবাজার এলাকয় সব কোম্পানীর ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত আমরা জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতিকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেই। এর ফলে গত ৮ মার্চ থেকে ওইসব এলাকায় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দাস কালা ও অবৈতনিক সম্পাদক শওকত আলী খান সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, ফারিয়া আমাদের ক্যামিস্টদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে আমরা ড্রাগ ও পপুলার দু’টি কোম্পানীর ওষুধ নেয়া বন্ধ করে দেই। এরপর তারা শহরসহ সদর উপজেলার ৭টি এলাকায় ওষুধ দেয়া বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধ্য হয়ে আমরা রোববার থেকে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত সদরসহ ৫টি উপজেলায় ৪টি কোম্পানীর ওষুধ নেয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেই।

তারা আরও বলেন, কোন সামাজিক অনুষ্ঠান করার জন্য সহযোগিতা নিতে হয়। এটা কোন চাঁদাবাজি নয় বলে সমিতির ওই ২ কর্মকর্তা দাবি করেন।

ওয়ান নিউজ
============

চাদাঁ নিয়ে প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী বিরোধ

মুন্সীগঞ্জে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ: জীবনরক্ষাকারী ওষধ সঙ্কটের আশঙ্কা

মাহাবুব আলম বাবু: বনভোজনের চাদাঁর টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে ওষূধ কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের দুই সংগঠনের সৃষ্ট বিরোধে গত চারদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শতাধিক ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা শহর ও শহরাঞ্চলের ২’শ ওষুধের দোকানে ওষুধ সরবরাহ বদ্ধ রেখেছে। এতে গত চারদিনে প্রায় দুই কোটি টাকার ওষুধ মালামাল সরবরাহ না হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ সকল প্রকারের ওষুধ সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের হাতে থাকা মজুদ ও ঢাকার মিডফোর্ড থেকে ওষুধ ক্রয় করে খুচরা বেচাকেনা করছেন। কোন ওষধ সঙ্কট এখনো হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে। এদিকে দ্রুত এ বিরোধের সমাধান না হলে জনসাধারণ ওষধ সঙ্কটের কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন বলে সচেতন মহল মনে করছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি জেলা শাখার আয়োজনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক বনভোজন ও সাধারণ সভা করতে ফার্মাসিটিক্যাল রিপেজেন্টিভ এসোসিয়েশনের কাছে আর্থিকসহ সার্বিক সাহায্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এছাড়া পপুলার ও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল নামের দুইটি কোম্পানীর প্রতিনিধির সঙ্গে তাকওয়া ও মাহাবুর ফার্মেসীর দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়া হয়। এতে ওষধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি জেলা শাখা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা ওই দুই কোম্পানীর ওষধ বিক্রি বন্ধ করে দেন। তবে তারা চাদাঁ দাবির কথা অস্বীকার করলেও ওষধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকে কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া বনভোজনের চিঠির সঙ্গে পাঁচ থেকে ৩০ হাজার টাকার টোকেন দেওয়ার বিষয়টি খোজঁ নিয়ে জানা গেছে।

ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টিভ এসোসিয়েশন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ওষধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন তাদের বার্ষিক বনভোজন পালনের জন্য ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে প্রায় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের ছাড়াই বনভোজন পালন করে। তিনি জানান, তাদের দাবী করা টাকা না দেওয়ায় ওষধ ব্যবসায়ীরা দুইটি কোম্পানীর ওষধ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও অন্যান্য কোম্পানীর ওষধ বিক্রি করার হুমকি দিয়েছেন। এরফলে ওষধ প্রতিনিধিরা জরুরি সভা করে গত ৮ মার্চ শুক্রবার থেকে মুন্সীগঞ্জ শহর, হাসপাতাল রোড, মাঠপাড়া, মুক্তারপুর, রিকাবীবাজার এলাকার ওষধের দোকানগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী খান চাদাঁর কারনে বিরোধের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, ব্যবসায়ীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় দুইটি কোম্পানীর ওষধ বিক্রি বন্ধ করায় সকল কোম্পানী ওষধ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, চারদিন ধরে ওষধ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও মুন্সীগঞ্জে এখনো কোন সঙ্কট দেখা দেয়নি। মজুদ থাকা ও ঢাকার মিডফোর্ড থেকে ওষধ ক্রয় করে বেচাকেনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মেজবাহুল বাহার জানান, মুন্সীগঞ্জে কোন ওষধ সঙ্কট হয়নি। বিষয়টি তিনি মৌখিক ভাবে শুনেছেন।

নিউজ পয়েন্ট
========