সরস্বতী পূজা উদযাপন

1362557013_japan-134রাহমান মনি
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, দেবী সরস্বতী হচ্ছে জ্ঞানের প্রতীক। জ্ঞান হচ্ছে সুন্দরের ধারক, মানুষের হৃদয়কে পবিত্র করে শুভ্র করে, সুন্দরের নীলিমায় করে দেয় এই ভুবন, তাই দেবী বসনা শুভ্র পক্ষের ওপর আসীন, শুভ্র হংস তার বাহন। দেবী সরস্বতী হচ্ছে সৃষ্টির প্রতীক। তার শুভ্র বসন, নিষ্কলঙ্ক চরিত্র ও পূতপবিত্র মননশীলতার নিদর্শন। পক্ষের ওপর আসীন এ দেবী সরস্বতী, যার অর্থ হচ্ছে জ্ঞানের আলোতে দেবী প্রোজ্জ্বল, শুভ্র হংস হচ্ছে দেবীর বাহন যা হচ্ছে অনুসন্ধিৎসু ভাবনার নিদর্শন। দেবী বীণা হস্তে সুরের মূর্ছনায় বিভোর, যা সর্বত্র জানিয়ে দেয় হৃদয়ের সকল রজ্জুতে বিরাজ করছে এক অনাবিল ঐকতান। লাল পলাশের মতো গন্ধহীন ফুলের আরাধনা করা হয় দেবীকে। যার অর্থ হচ্ছে ভেজালশূন্য পবিত্র ও বিশুদ্ধ এক আন্তরিকতা বিরাজ করছে দেবীর মহিমা। এ নির্মল উজ্জ্বল কান্ত স্নিগ্ধ প্রশান্তপ্রাণের স্পর্শ প্রাপ্তির বাসনায় বাংলাদেশের সকল বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের মনে জাগে জ্ঞানের বাসনা, পবিত্রতার আবেগ। এ দিন শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবই দেবীর চরণতলে রাখে শিক্ষা জীবনে আলোকছটা বিচ্ছুরণের জন্য। জীবনের প্রথম হাতেখড়ি ও তাই দেবীর চরণতলেই নিয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। জাপানে এ বছর হাতেখড়ি না নিলেও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবই দেবীর চরণতলে রাখে পূজা শুরু থেকে শেষ অবধি। জাপানেও এ ধরনের রীতির কথা জানা যায়।

সার্বজনীন পূজা কমিটি জাপান ১৮তম শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছিল টোকিওর আকাবানে কিতা কুমিন সেন্টারে। সকাল ১১টায় পূজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পূজাতে এবার অঞ্জলি দেয়া হয়। অঞ্জলি শেষে প্রসাদ ও ভোগ বিতরণের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও চলে রাত অবধি। ১৭ ফেব্রুয়ারি রোববার ছিল পূজা পালনের দিন।
1362557013_japan-134
পূজা বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন দূতাবাস কর্মকর্তা ড. জীবন রঞ্জন মজুমদার, মাসুদুর রহমান, সভাপতি সুখেন ব্রহ্ম এবং উপদেষ্টা ড. কিশোর কান্তি বিশ্বাস। পরিচালনা করেন তনুশ্রী গোলদার।


ববিতা পোদ্দারের পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর পরই শুরু হয় ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও পরিবেশনায় ছিল প্রবাসীদের প্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বেবী রানী কর্মকার।
ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তা তপন কুমার দত্ত সপরিবারে সকাল-সন্ধ্যা পূজায় উপস্থিত থেকে সন্ধ্যা আরতীতে অংশ নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়েছেন। সন্ধ্যা আরতীর পর ফলাদি ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে নেচে গেয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

পূজারি, ভক্ত সুহৃদ এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে ঢাক, ঢোল কাসির বাজনায় পূজামণ্ডপ মুখরিত ছিল সারাক্ষণ। যেটা চির পরিচিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতীক।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক