গজারিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু

তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলোকে একত্রিত করতে গজারিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ব্যবস্থা নিতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিজিএমইর মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমতিপত্র মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এরপরই মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ কাজের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন জমি অধিগ্রহণের আইন অনুযায়ী জমির মালিকদের চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গজারিয়ার বাউশিয়া এলাকায় যে স্থানে গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন করা হবে সেখানে এখনও তিন ফসলি কৃষি জমি, আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসলাদি।

জমি অধিগ্রহণ করা হবে এমন খবর পাওয়ার পর “কৃষি জমি রক্ষা কমিটি” গঠন করে আন্দোলন করার চিন্তাভাবনা করছে জমির মালিকরা।

স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় কয়েকটি মৌজায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ৫শ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে পিপির আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বাংলানিউজকে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জমি অধিগ্রহণের চিঠি বা প্রস্তাবনা পেয়েছি। এখন তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া গত ৩ মার্চ (শনিবার) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আয়াতুল ইসলাম নির্ধারিত স্থান গিয়ে রাস্তা ৩শ ফুটের পরিবর্তে ৫শ ফুট করা যায় কিনা তা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে গজারিয়ার ইউএনওকে ৫শ ৫ একর জমির মূল্য নির্ধারণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আয়াতুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর থেকে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী জমির মালিকদের চিঠি দেওয়া হবে শিগগিরই।

তিনি আরও বলেন, গজারিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন হলে মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও প্রসারিত হবে। তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহার বাংলানিউজকে জানান, গার্মেন্টস পল্লীর লে-আউট প্লান পাঠানো হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করবে জেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়ায় মহাসড়কের পাশে গার্মেন্টস পল্লীতে স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭শ ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং শিল্পের জন্য ৯শ ৭৬টি কারখানার প্লট থাকবে। প্রকল্পের আওতায় সিইটপি, ডাম্পিং ইয়ার্ডসহ অন্যান্য সুবিধা থাকবে।


বাউশিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, গজারিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার কৃষি জমিতে তিন ফসলি আবাদ হচ্ছে। কৃষকরা আবাদ হওয়া ফসল ঘরে তুলে তাদের জীবিকা নির্বাহ অব্যাহত রেখেছেন। এ জমি অধিগ্রহণ করতে চেষ্টা করলেও আবারও আন্দোলনে নামতে পারে জমির মালিকরা।

বর্তমান ইউপি সদস্য তাবারক হোসেন বাংলানিউজকে জানান, তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও শুরু হয়নি। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে “কৃষি জমি রক্ষা কমিটি” গঠন করে আন্দোলন করার চিন্তাভাবনা করছে কয়েক শতাধিক কৃষক।

তিনি আরও জানান, এর আগেও আন্দোলন করে, মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম