এই পর্যায়ে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে

bcআমরা আশাবাদী, তারুণ্যের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর…অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। একদিকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির সারা দেশে আন্দোলন করছে। গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি টানা দুই দিন তারা হরতাল করে। প্রকাশ্যে কর্মসূচি না দিয়ে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করছে। ইসলাম ও কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে কয়েকটি ইসলামী ও সমমনা দলও আন্দোলন করছে। কিন্তু এই আন্দোলনের নেপথ্যে জামায়াত-শিবির সহিংসতা করছে বলে নানা অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বা রাজনৈতিক ভবিষ্যত কী হয় তা নিয়েও রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি মুখ খুলছেন না। তবে এ বিষয়ে জানতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁর কাছে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরা হলে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগ থেকে সারা বাংলায় ভার্চুয়াল আন্দোলন থেকে রাজপথে তারুণ্যের প্রতিবাদী যে স্ফুরণ এবং দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্র বা গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে ব্যর্থতার পরিচয়, তাকে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে রাজনীতিবিদদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় বলা যায়। দিনের পর দিন অহিংস সমাবেশ করে দাবিও তোলা যায়। কিন্তু এই সমাবেশকে ব্যবহার করার জন্য সরকারি দলের তৎপরতাও মানুষের কাছে লক্ষণীয়। বিশেষ করে এই অহিংস গণজাগরণের সমাবেশকে দলীয়করণের জন্য সরকারি দলের ৭০ জন সংসদ সদস্য ও কিছু মন্ত্রীর উপস্থিতি সন্দেহের আঙুল তুলেছে।

কথা উঠেছে, জামায়াতে ইসলামীর বিচার করে শাস্তির আওতায় আনতে হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন আইন-২০১৩ আবার সংশোধন করতে হবে। আইনে ব্যক্তির শাস্তির বিষয়টি নির্ধারিত হলেও সংগঠনের শাস্তির বিষয়টি এখনো নির্ধারিত হয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার দুর্বলতার পাশাপাশি সম্প্রতি সংশোধিত বিলেও যে অবহেলার বহিঃপ্রকাশ, তাকে কিভাবে দেখছেন?
জামায়াতে ইসলামীর শাস্তির বিধান করা হয়নি। কখনো দলকে যাবজ্জীবন বা ফাঁসি দেওয়া যায় না। দলের নেতিবাচক ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কিছু অর্থদণ্ড করা যায়। সাময়িক বা ভবিষ্যতের জন্য নিষিদ্ধ করা যায়_এগুলো করা হয়নি। কিন্তু এখন সরকার কী করবে তা বলা কঠিন।

একদিকে আমাদের প্রতিবাদী তারুণ্যের বাংলাদেশ, অন্যদিকে অধঃপতিত ছাত্ররাজনীতি। একে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
রাজনীতি অধঃপতিত হয় না। নেতৃত্ব কলুষিত হয়। কিছু ছাত্রনেতা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও গুণ্ডামি করছে। কিছু ছাত্রনেতা রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তবে আমরা আশাবাদী, তারুণ্যের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এই পর্যায়ে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে।

সাম্প্রতিক রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?
দেশ ঘোর হতাশার অন্ধকারে চলে যাচ্ছে। রাজনীতিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। জানি না গৃহযুদ্ধ অথবা অসাংবিধানিক শাসন চলে আসে কি না। ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা একটি সঠিক কাজের উদাহরণ। অথচ আল্লাহ বা রাসুল (রা.)-এর বিরুদ্ধে কে বা কারা ঘৃণ্য কাজটি করল, দুই সপ্তাহ হয়ে গেলেও সরকার কেন তাদের চিহ্নিত করতে পারল না? ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলে ইসলামী দলগুলোর হরতাল হয়তো হতোই না।

কালের কন্ঠ