সাভারে চলন্ত বাসে ধর্ষণ চেষ্টা, লাফ দিয়ে ওই গাড়ির চাকায়ই পিষ্ট হলেন গৃহবধূ

ইজ্জত বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে ওই বাসেরই চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে এক গৃহবধূ। এ সময় তার স্বামীকেও দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। নিহতের নাম চাঁদনী খাতুন (২০)। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার করারবাগ এলাকায়। সে তার স্বামী আবুবক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে সাভারের রেডিও কলোনী ভাটপাড়া এলাকায় আ. মান্নানের বাসায় ভাড়া থাকত।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে শিমুলতলা এলাকায়।


আবুবক্কর জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রাজ্জাক প্লাজার সামনে থেকে স্ত্রী চাঁদনীকে সঙ্গে নিয়ে সে ‘গ্রামীনসেবা’ পরিবহনের একটি বাসে করে আশুলিয়ার জিরানী বাজারে খালার বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়। বাসটি ‘আমিন কমিউনিটি সেন্টার’ পার হওয়ার পর ভিতরে লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। যাত্রীবেশী ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত মারধর করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। দুর্বত্তরা তাঁর স্ত্রীকে বাসের পেছনের সিটে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং নির্যাতন চালায়। ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে তার স্ত্রী তখন চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে লাফ দিলে ওই বাসেরই পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে সে চাঁদনীকে নিয়ে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে রেফার করে। ঢাকায় নেয়ার সময় পথিমধ্যে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। চাঁদনীর শ্বশুর তার ছেলের বউয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর এগারোটায় চাঁদনীর স্বামী আবুবক্কর থানায় এসে ঘটনাটি জানায়। থানায় মামলা হয়েছে। গ্রামীন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি শনাক্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জনকন্ঠ