মুন্সীগঞ্জে বই মেলায় পুরস্কার নিয়ে নয়ছয়

বই ব্যবসায় জড়িত না থেকেও একুশে বই মেলায় পুরস্কার পেয়েছে অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জে। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে বই মেলার আয়োজন করে। এই বই মেলায় বইয়ের দোকান ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যোগ দেয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রথম পুরস্কার পায় আদর্শ লাইব্রেরী। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পায় রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ ও আলোর প্রতিমা। বই মেলায় রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ স্ক্রীনে টম এন্ড জেরি, চ্যার্লি চ্যাপলিন ও কার্টুন দেখিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়।


অন্যদিকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কবি পরিষদ নামের স্টলটি ২১ ফেব্রুয়ারির দিন হয়ে যায় আলোর প্রতিমা। এই দিন এখানে বিভিন্ন কবিদের কবিতার বড় বড় পোস্টার শোভা পায়। কবিতার পোস্টার দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি ছিনিয়ে নেন এবারের বই মেলার তৃতীয় পুরস্কার।

এই ঘটনায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসনের বই মেলার সভায় আমাদের দাবি ছিল যেন বই ব্যবসায়ী অংশ গ্রহণকারীদের যেন সনদপত্র দেয়া হয়।

কিন্তু এই আবেদন এখানে উপেক্ষিত হয়েছে। বরং জেলা প্রশাসনের একজন এডিসির নিজের লেখা বই দিয়ে মেলায় অংশ গ্রহণকারীদের বিদায় দেয়া হয়। বই ব্যবসায়ীরা বই-ই পেলেন।

আগামীতে এই রকম বই মেলা বর্জনের আশংকা করছেন সমিতির কর্মকর্তারা। কোন ক্যাটাগরিতে এই দুটি প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কার পেলো তা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ শহরে নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকের ধারণা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এই বই মেলায় সাপ্তাহিক বিক্রমপুর সংবাদ ও জেলার প্রথম অনলাইন পত্রিকা মুন্সীগঞ্জ নিউজ ডটকম এর একটি স্টাল ছিল। তাদেরকে পুরস্কার নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

কিন্তু নেক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই প্রতিষ্ঠান কোন পুরস্কার গ্রহণ করেনি। এই ঘটনায় এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণাধার মোহাম্মদ সেলিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিউজএক্সপ্রেসবিডি.কম