মুন্সিগঞ্জে দুই বাংলার মানুষের মিলনোৎসব

মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে শুক্রবার দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা বসে। ১২৮ বছরের ঐহিত্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকাল ভারতের কলকাতা থেকে আগত এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রসহ পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে কলকাতার হাওড়ার বালি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ হাজরা (৭০) বলেন, ‘বাংলা ভাষাই আমাদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখানে টেনে নিয়ে এসেছে।’

মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর এবং ভারত-বিক্রমপুর ফ্রেন্ডশিপ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে গতকাল ওই অনুষ্ঠান হয়। ভারত থেকে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আগত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও বাড়ি মুন্সিগঞ্জে তথা বিক্রমপুরে, কারও বাড়ি পাশের ফরিদপুর ও চাঁদপুরে। আবার কেউ কেউ মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে বাধ্য হয়ে তাঁরা বাড়িঘর ফেলে কলকাতায় চলে যান।


৪৯ বছর পর নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে সাঁতারু রমেন দাস বলেন, ‘১৯৬৪ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় আমরা এ দেশ ছাড়তে বাধ্য হই। অনেক কষ্ট নিয়ে আমরা সেই দিন চলে যাই। আজ দেশের মাটিতে প্রথম আসতে পেরে কী যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ রমেন দাসের বাড়ি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ শহরের গণকপাড়ায় ছিল। এখন সেই বাড়িতে অন্যরা বসবাস করেন।

কলকাতা থেকে অতিথি হিসেবে আসেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বারিত বরণ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী। বারিত বরণ ঘোষ জানান, এই বাংলার মানুষ অনেক অতিথিপরায়ণ। এখানে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হয়।


ভারত-বিক্রমপুর ফ্রেন্ডশিপ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি জ্ঞানরঞ্জন দাস বলেন, ‘দুই বাংলার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করার জন্য আমরা দুই পারে দুটি কমিটি করেছি। ইতিমধ্যে এই কমিটির মাধ্যমে আমরা দুই বাংলার মানুষ দুই পারেই দুবার করে মিলনোৎসব করেছি।’

প্রথম আলো