মুন্সিগঞ্জে আরটিভি প্রতিনিধি লাঞ্ছিত

ফেরিস্টাফদের হামলায় ১৫ যাত্রী আহত
মুন্সীগঞ্জ: মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটের ফেরি যাত্রীদের হয়রানীর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেই হয়রানী ও হামলার শিকার হয়েছেন আরটিভির মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ফরিদ হোসেন (২৮)। ফেরি থোবালের স্টাফরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও মোটরসাইকেল নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন যাত্রীরাও। এতে অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ পরিস্থিতিতে পুলিশ বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ফরিদকে রক্ষা করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে আক্রান্ত যাত্রীদের নিরাপদে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা জাড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

যাত্রীদের দেয়া তথ্য উল্লেখ করে মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার খালিদ হোসেন জানান, সাংবাদিক ফরিদ হোসেন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মাওয়া আসার জন্য আরটিভির স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেল নিয়ে অন্যান্য বাইকের মতই কাওড়াকান্দি ঘাটে ফেরিতে ওঠেন। ফেরিটি ছাড়ার মুহুর্তে সারেং ফয়েজ মোটরবাইক উঠানো নিয়ে গালাগালি করেন। এক পর্যায়ে তা নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়।

এর প্রতিবাদ জানালে ফরিদ হোসেনের গালে চড় দেয় সারেং। এ সময় লস্কর আলমগীর ও আব্দুল কুদ্দুস নামের দুজন স্টাফও যোগ দিলে ছিটকে পড়ে যায় ক্যামেরা ও মোবাইল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধযাত্রীরা স্টাফদের ওপর চড়াও হন।

এদিকে ফেরিটি রাত আটটায় মাওয়া ঘাটে পৌঁছলে স্টাফদের পক্ষের শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ফেরি যাত্রীদের ওপর এলোপাথারি হামলা করে মোটরসাইকলে নদীর পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে সাধারণযাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে স্টাফদের গণপিটুনি দিলে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন। এর মধ্যে আনোয়ার (৩০), হাজী আব্দুল ওহাব (৭০) ও শাহাবুদ্দিনকে (৫৫) স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গণপিটুনিতে আহত সারেং ফয়েজ (৪০) ও লস্কর আলমগীরকে (৩৫) লৌহজং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি সহকারী ম্যানেজার এসএম আশিকুজ্জামান এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রাথমিক মধ্যস্থতায় রাত সাড়ে ১০টায় ফাঁড়ি থেকে যাত্রী ও সাংবাদিক ফরিদ সদরে রওনা হন।

সাংবাদিক ফরিদ হোসেন বলেন, সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেই হয়রানির শিকার হয়েছি।

ফরিদ বলেন, একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট যাত্রীদের জিম্মি করে নানাভাবে সুবিধা নিচ্ছেন। তেল চুরি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সিরিয়ালের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি স্টাফদের হাতে নানাভাবে যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকেই লাঞ্ছিত হচ্ছেন।

বাংলামেইল২৪