কনস্টেবল ও পৌর কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মুন্সীগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকের ২৪ ঘন্টা পর
৫১পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ র‌্যাবের হাতে আটক পৌর কর্মকর্তা ও পুলিশের কনস্টেবলকে আটকের ২৪ ঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে সদর থানা হাজত থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক জেলার গজারিয়া থানার কনস্টেবল মো. সেলিম (৪০) ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশল শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার ফরিদুল ইসলাম (৩২)-কে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করা ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার দেখায়। এদিকে, কর্তব্য পালনে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন কনস্টেবল মো. সেলিমের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ বিভাগীয় অভিযোগপত্র দায়ের করেন।


এর আগে বুধবার রাত ১১ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার তৃতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে র‌্যাব-১১’র একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পৌরসভার সার্ভেয়াল ফরিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল সেলিমকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আটককৃতদের সদর থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। র‌্যাব-১১’র নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রবিউল ইসলাম বলেন, যেহেতু পৌরসভা ভবনে সার্ভেয়ারের রুম থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সে কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা যেতেই পারে। এ বিষয়ে বুধবার র‌্যাবের এক সাব-ইন্সপেক্টর জহির আহমেদ বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তসহ বাকি দায়িত্ব মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশের বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে নব-নিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, তাদের পুলিশ না র‌্যাব আটক করেছে-এ তথ্য তার জানা নেই। এদিকে, বুধবার রাতে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও কনষ্টেবল মো. সেলিম সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে দায়িত্বহীনতা ও কর্তব্য অবহেলার কারণে এ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার।


তবে, পৌর কর্মকর্তা ও কনস্টেবল আটক হওয়া ও ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে থানার এ পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা এড়িয়ে যান। এদিকে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ও পরে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া নিয়ে মুন্সীগঞ্জে পুলিশের ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় শহরের সচেতন মহলের বক্তব্য, পুলিশ সবই পারে। এর আগে বুধবার রাতে পুলিশের কনস্টেবল ও পৌরসভার সার্ভেয়ারকে আটকের পর নানা তদবির শুরু হয়। তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে নাকি ছেড়ে দেয়া হবে-এ বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে ঘটনা ব্যাপকভাবে স্থানীয় সাংবাদিক ও নানা পেশাজীবী শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আটকের সাড়ে ১৭ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের সদর থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব-১১। এর আগে র‌্যাব-১১’র এএসপি রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ইয়াবা সেবনের আড্ডা চলে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র একটি টিম শহরের পুরাতন কাচারী এলাকাস্থ মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পুলিশ কনস্টেবল সেলিমকে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলার ৫১২ নম্বর রুমে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত সার্ভেয়ার ফরিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

পৌরসভার একাধিক সূত্র জানান, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অফিস ছুটির পর বাড়ি ফিরে গেলে রাতে সার্ভেয়ার ফরিদুল ইসলাম পৌরসভা ভবনের তার কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছে। সার্ভেয়ারের বাড়ি মানিকগঞ্জে। গত বছর-দেড়েক ধরে সার্ভেয়ার ফরিদুল ইসলাম ব্যাপকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মদ, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের নেশায় সে আসক্ত হয়ে পড়ে বলে পৌরসভার কয়েকটি সূত্র জানান। এ নিয়ে তিনি স্থানীয় মাদক সেবীদের সঙ্গেও আড্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কারো কারো সঙ্গে বিরোধও দেখা দেয়।

জাস্ট নিউজ