বিক্রমপুরে প্রত্নতত্ব খনন নিয়ে লুকোচুরি

Rampal_bikrampur_biharমুন্সীগঞ্জের রঘুরামপুরে মাটি খুড়ে পাওয়া হাজার বছরেরও প্রচীন বৌদ্ধ বিহার নিয়ে ইতিহাস প্রেমীদের কৌতুহলের অন্ত নেই। প্রায় তিন বছর ধরে চলছে প্রত্নতত্ব খনন। আয়োজনে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন।

খনন কাজের মূল দায়িত্বে আছেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সূফী মুস্তাফিজুর রহমান।

এই খনন কাজে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়মিত। তিন বছর ধরে চলা খননে মাটির ভাঙ্গা কয়েকটি পুতুল ও পাত্র ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ খনন কাজে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের নিয়ম থাকলেও এখানে নেই। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খনন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মূল দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. সূফী মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, খননের অগ্রগতি ভাল।

কোন মূল্যবান প্রত্ন সামগ্রী পাওয়া গেল কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাটি খুড়ে কয়েকটি দেয়াল উম্মুক্ত করা হয়েছে। এগুলোই আমাদের কাছে অতি মূল্যবান।


গুরুত্বপূর্ণ এই খননে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়নি, প্রশাসনের উপস্থিতি নেই বা প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছেনা কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও খনন কাজে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ব্যাবহার করা হয়না। আমরা সরকারী সহযোগিতা ছাড়াই খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার আমাদের এক টাকাও দেয়নি।

সরকারী সহায়তা ছাড়া নিজেদের অর্থায়নে খনন করে আপনাদের লাভ কি? এ প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, আমরা গবেষনা করি, বই লিখি, ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেই।
গত শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারী) সাংবাদিক সম্মেলন করে খননের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর কথা থাকলেও কেন করেননি? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকায় আমাদের একটি অনুষ্ঠান থাকায় শুক্রবার করা হয়নি। আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করব।

অনেকেই অবগত আছেন, ফ্রান্সে প্রদর্শনীর নামে বাঙলাদেশের দুটি মুল্যবান মূর্তি কয়েক বছর আগে চুরি হয়েছে। সে গুলো আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্ন সামগ্রী সংরক্ষনের দায়িত্বে থাকা দুষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় এগুলো পাচার করা হয়।

রঘুরামপুরের খনন নিয়ে আমাদের আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হয়নি। এ খননের ব্যাপারে বিক্রমপুরবাসী শংকিত।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ