বাবাগো আমি আর পুতুল চাইনা! তুমি একবার কথা কও…

basar kofinআবুধাবীতে নিহত আবুল বাশারের লাশ দেখে শিশু সন্তানের আহাজারি
আরিফ হোসেন:আবুধাবীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবুল বাশারের লাশ মঙ্গলবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার মদনখালী গ্রামে এসে পৌছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। বাশারের বড় মেয়ে মারিয়া (৮) বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। বাবাগো আমি আর পুতুল চাইনা। তুমি একবার আমার সাথে কথা কও।
basar mam
মারিয়ার কান্নার সাথে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভাড়ি হয়ে উঠে। বাশারের ষাটোর্ধ পঙ্গু মা লায়লা বেগম ছেলের লাশ দেখে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করে বলছেন বাশার কইছে মা তুমি আমার জন্য দোয়া কইর আমি টাকা দিয়া তোমার টোপর ভইরা দিমু। আমার টেকা লাগবো না । আমার সোনার চান তো আর আমারে মা কইয়া ডাক দিবনা। বাশারের স্ত্রী মুক্তার চোখে রাজ্যের হতাশা। তিনি বার বার চিৎকার করে বলছেন আমার দুমেয়েকে নিয়ে এখন আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। বাশারের ছোট মেয়ে উর্মি (৬) বাড়ির এক কোনে গালে হাত দিয়ে মাটিতে বসে দাদার কাছে জানতে চাইছে তার বাবা কখন আসবে। আবুধাবীতে দুর্ঘটনার ২দিন আগে বাড়িতে ফোনে জানিয়েছিলেন আর দুমাস পরই ছুটিতে দেশে আসছেন। দুমাসের মধ্যে নয় মাত্র দুসপ্তাহর মধ্যেই তার নিজের বাড়িতে ফিরে আসল বাশারের লাশ।
basar kofin
আবুল বাশার মদনখালী গ্রামের শেখ আলেপ মিয়ার ছেলে। অভাবের সংসারে একটু সচ্ছলতার আশায় ধার কর্য করে পৌনে তিন লাখ টাকায় বাশার তিন বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন আবুধাবীতে। সেখানে গিয়ে বাশার খুব কম বেতনের চাকুরি পান । ফলে এখনো শোধ হয়নি মহাজনের কর্যের টাকা। ।


মঙ্গলবার বিকালে আবুল বাশারদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় থেমে থেমে চলছে শোকের মাতম। এসময় শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম বাশারের স্বজনদের শান্তনা দেন। ঐদিনই জানাযা শেষে বাশারের লাশ দক্ষিন মদনখালী কবর স্থানে দফন করা হয়।