নতুন বাড়িতে বাস করা হলোনা আবুল হাসেমের

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে বসবাস করা হলোনা রঙ ব্যবসায়ী আবুল হাসেমের। স্ত্রী ও সন্তানদের নির্মাণাধীন বাড়িটি দেখানোর পর গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে লঞ্চডুবির কবলে পড়েন আবুল হাসেম। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বল্কহেডের ধাক্কায় নারায়নগঞ্জ থেকে মতলবগামী এমএল সারস নামের যাত্রীবাহী লঞ্চডুবিতে আবুল হাসেম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানিতে তলিয়ে যান।

ওইদিন বিকেলে দেড় বছরের ছেলে প্রিন্সের লাশ ও পরদিন শনিবার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মনি আক্তারের লাশ উদ্ধার হলেও রোববার বিকেল পর্যন্ত রঙ ব্যবসায়ী আবুল হাসেম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তাদের লাশের খোজেঁ শনিবার থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।


কিন্তু মেঘনা নদীর কোথাও লাশ ভেসে না উঠায় এখনও ব্যবসায়ী আবুল হাসেম ও তার স্ত্রী শেফালী নিখোঁজ রয়েছেন।

আবুল হাসেম ও শেফালী বেগমের মতো আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আবুল হাসেমের ভাগনে নাহিদুল ইসলাম বাবুল বাংলানিউজকে জানান, তার মামা নারায়ণগঞ্জ শহরে রঙের ব্যবসা করেন। সম্প্রতি তিনি শহরের জামতলা এলাকায় জায়গা কিনে বসবাস করার জন্য ভবন নির্মাণ করছিলেন।

এই বাড়ি দেখতেই উত্তর মতলব উপজেলার মুক্তিরকান্দি গ্রামের বাড়িতে থাকা স্ত্রী শেফালী ও সন্তান মনি আক্তার ও প্রিন্সকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গিয়েছিলেন।

স্ত্রী-সন্তানদের নির্মাণাধীন বাড়ি দেখিয়ে গ্রামের বাড়ি দিয়ে যাওয়ার পথে শুক্রবার সকালে লঞ্চডুবিতে সপরিবারের নিখোঁজ হন।

ব্যবসায়ী আবুল হাসেমের ভাতিজা জানান, শনিবার থেকে কোথাও তাদের সন্ধান না পেয়ে ‘লঞ্চ ডুবিতে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে লিফলেট তৈরী করে তাতে ৪টি মোবাইল নম্বর লিখে লাশের খবর পেলে তা জানানোর জন্য মেঘনা নদীর এপার ওপারে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিলি করেছেন।

তাদের সঙ্গে থাকা অপর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, লঞ্চ উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও এখনও অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

কিন্তু উদ্ধারকাজে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নিজ খরচে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা মেঘনা নদীতে চষে বেড়াচ্ছেন।


মতলবের মুক্তিরকান্দি গ্রামের নাসির জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চের টিকেট মাস্টার দুর্ঘটনার আগে শিশু ছাড়া ৭০ জন যাত্রীর টিকেট কেটেছিলেন। লঞ্চডুবির পর ২০ থেকে ২৫ জন জীবিত ও ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে হিসেবে এখনও ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিখোঁজ থাকলেও প্রশাসন মাত্র ৫ জন নিখোঁজ থাকার তালিকা তৈরী করেছে।

তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে জানান, ডুবুরিরা নদীর তলদেশে গিয়ে যাত্রীদের পেট কেটে দেওয়ায় তাদের লাশ ভেসে উঠছে না।

এছাড়া স্থানীয়রা মনে করছেন, বালু কাটার ফলে মেঘনা নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘূর্ণাবর্তে প্রচুর পরিমাণ পলি মাটিতে নদীতে তলিয়ে থাকা লাশ চাপা পড়ে যাওয়ায় তা ভেসে উঠতে পারে না।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গির হোসেন জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত মেঘনা নদীতে কোনো লাশ ভেসে উঠার খবর পাওয়া যায়নি। নদীতে পুলিশের টহল রাখা হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম