মেঘনায় লঞ্চ উদ্ধারে বিলম্ব: স্বজনদের বিক্ষোভ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ডুবন্ত লঞ্চটি সনাক্ত হওয়ার পরও লঞ্চ কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ায় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্বজনরা “লাশ চাই, লাশ চাই” স্লোগানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এর আগে দুপুর ২টার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি সনাক্ত করেন ডুবুরিরা। কিন্তু ৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও লঞ্চটি উদ্ধারের বিলম্ব হওয়ায় স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

তবে উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব হচ্ছে না বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক আবুল বাসার। তিনি জানান, নদীর গভীরতা বেশী ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হলেই লঞ্চটি তোলা হবে।


অন্যদিকে লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ইসমানিরচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে যান বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান খন্দকার সামছুদ্দোহা। তিনি দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজণীয় দিকনিদের্শনা দিয়ে ঢাকায় ফিরে গেছেন।

এছাড়া লঞ্চ ডুবির ঘটনার খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল, পুলিশ সুপার সাহাবুদ্দিন খান বিপিএম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসারউদ্দিন ভূঁইয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

দুপুরে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন চাদঁপুর-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এম রফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার নাজমুল আহসান, মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আলী সাজ্জাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল।

তারা উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমে অবস্থান নিয়ে ডুবে যাওয়া এম এল সারশ নামের লঞ্চটি উদ্ধার তৎপরতা প্রত্যক্ষ করছেন।


মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বাংলানিউজকে জানান, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় মৃত যাত্রীর প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের নাম ময়না বেগম (২৪) তিনি নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকায় বসবাস করেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া ২ বছরের শিশুর নাম প্রিন্স বলে জানা গেছে। সে মতলবের মুক্তারকান্দি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

স্বজনরা জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশু প্রিন্স তার বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে নারায়নগঞ্জ থেকে চাদঁপুরের মতলব যাচ্ছিলেন। ডুবুরিরা শিশু প্রিন্সের লাশ উদ্ধার করলেও এখনও তা বাবা-মা ও বোনের কোনো সন্ধান পাননি।

কাজী দীপু, জেলা সংবাদদাতা
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম