নৌপথের এক ‘লাটভাই’র কারণে দুর্ঘটনা

নৌপথের ত্রাস এখন ৫৫ হাজার ছোট-বড় নৌযান। এসব নৌযান, বাল্কহেড, কার্গো. ড্রেজার, ট্রলার, এমন নানা নামে পরিচিত। বেশিরভাগ নৌযানের কোন সার্ভে নেই। এসব নৌযান কোন নিয়ম কানুন মানে না। এমনকি এ ধরনের নৌযানের নকশায় পর্যন্ত ত্রুটি রয়েছে। রাতে এসব নৌযান চলাচলের কোন অনুমতি না থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই চলছে দেদারছে। ফলে এগুলো নৌপথে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবারের লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটায় ‘ফিরোজা ফারজানা’ নামের বাল্কহেট। এটির কোন কাগজপত্রই নেই। কোন রকমের সার্ভেও নেই। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান জানান, এটি বালু টানার জন্য গজারিয়ার বালু মহলে যাচ্ছিল।


এমন নৌযানগুলোই এখন নদী পথের লাটভাই হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নৌদুর্ঘটনার জন্য এ ধরনের নৌযান দায়ী বলে নৌপথ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে এ ধরনের নৌযান নির্মাণ করা হচ্ছে। কোন ধরনের কারিগরি নকশা ছাড়াই মিস্ত্রি বা ওয়েল্ডারের পরিকল্পনায় এসব নৌযান নির্মাণ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে স্টিলের পাত বা স্ক্র্যাপ দিয়ে এর কাঠামো নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়। আর এসব তৈরির জন্য নানা স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ ওয়ার্কশপ। জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জনকণ্ঠকে জানান, এগুলোর ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এমএল সারস দুর্ঘটনার ব্যাপারেও মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

গত বছরের ১৩ মার্চ একই নদীর কিছু দূরে চরকিশোরী এলাকায় এমভি শরীয়তপুর-১ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১৪৭ জনের লাশ উদ্ধার হয়। সেই দুর্ঘটনার পর ও নৌপথের এই লাটভাইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উঠলে কদিন পরেই আবার থেমে যায়। বরং এক বছরের এই অবৈধ নৌ যানে সংখ্যার ৫ হাজার বেড়ে যায়।

জনকন্ঠ