মুন্সীগঞ্জের ইছামতি খাল দখলবাজদের দখলে!

ichamotiমুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি খাল শুকিয়ে পায়ের হাটুর নিচে অবস্থান করছে পানির গভীরতা। এক শ্রেনীর দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে এ ইছামতি খাল। খাল দখল ও পলি পড়ার কারনে ইছামতির গতি হারাতে বসেছে প্রাচ্যের কলকাতা বলে খ্যাত কমলাঘাট নৌ-বন্দর ও। অচিরেই দখল মুক্ত ও খাল খনন করে ইছামতির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় লোকজনেরা। জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যো ৫টি উপজেলার মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে ব্যবহার করতো এই ইছামতি খালটি।

এই অঞ্চলের লোকেরা মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম হয়ে টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর আসা যাওয়া করতো ইছামতির বুক দিয়ে চলা লঞ্চ ও নৌকায় করে। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল দিয়ে অল্প খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের পাশাপশি মালামালও আনা নেওয়া করতো মুন্সীগঞ্জের ৫টি উপজেলার মানুষেরা।


আর এ খালের আকর্ষনীয় বাহন ছিল সাম্পান নৌকা। আজ সে সব কিছু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেন রূপকথার গল্পের মত হয়ে পরেছে নতুন প্রজম্মের কাছে। আর দুই পাড়ে ঘরবাড়ী ও দোকান পাট উঠিয়ে দখলের ঘটনা অহরহ চলছে। ইছামতির অভিমুখে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছে কয়েক শত বেদে পরিবার। নৌকায় বসেই এই ইছামতি থেকে মাছ ধরে তাদের সকলের জীবিকার অনেকাংশ নির্বাহ করতো তারা। মাছ ধরাতো দূরের কথা, বেদেদের নৌকা ভেসে থাকার মতো প্রয়োজনীয় পানির গভীরতাটুকোও আর নেই ইছামতিতে। যেখানে বেদেরা নৌকা ভাসিয়ে বসবাস করতো, সেখানে আজ বেদেপল্লীর পুরুষরা মাটিতে বসে সময় কাটান বিভিন্ন আড্ডার ছলে।

আমাদের পরিবেশকে বাঁচাতে এবং অল্পখরচ ও আরামদায়ক চলাচলের জন্য ইছামতিকে অচিরেই দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত এবং এটা খনন করে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জোর দাবী এই অঞ্চলের মানুষদের ।


এদিকে ইছামতি নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করলেন মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন। তিনি বলেন, ইছামতি নদীটি পূনঃখননের কাজ করা হলে নদীটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। নৌরুটের যাতায়াত বাড়লে এই অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

বেস্টনিউজবিডি